কামারখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১১:০৩

মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ভবনটি বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু ভেতরে গেলে চোখে পড়ে ছাদের ঢালাই ও পলেস্তারা এবং দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। স্কুলটির বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ বশীর উদ্দীন জানান, ১৯৪২ সালে কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬০ সালে কক্ষের দ্বিতল ভবনটি নির্মাণের পর থেকে এখানেই স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে প্রায় আট শতাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ছাদের ঢালাইসহ পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময়ে ছাদ ছুঁয়ে পানি পড়ছে মেঝেতে। অনেক কক্ষেও তেমন ভালো দরজা-জানালা নেই। ফলে সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পাঠদান চালু রাখার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে চলছে পাঁচটি শ্রেণির ছাত্রীদের ক্লাস।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আহম্মেদ টিনা জানান, ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের ঢালাই ও পলেস্তারা খসে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে বিস্তৃত ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে থাকে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বর্তমান কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান বলেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ১৯৬০-৬১ সালে নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে স্কুল ফান্ড থেকে ভবনটি মেরামত করা হয়েছিল। বর্তমানে স্কুল ভবনটির খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের স্কুলটিতে এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত দুই বছর আগে কারিগরি অধিদপ্তরের (স্বেচিব) থেকে একটি একতলা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়, সেটিতে কারিগরি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে। দুই বছর আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চার তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন দিলে এ বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারমিস সুলতানা বলেন, কামারখালী স্কুল ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনটির অবস্থা ভালো না। স্কুলটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানাতে পারেন। স্থানীয় এমপির সুপারিশ হলে ভবন পাওয়া যেতে পারে। আবার অপত্কালীন বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড থেকেও মেরামত করা যেতে পারে। 

ইত্তেফাক/ইআ