নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলায় শুক্রবার পর্যন্ত আবাদকৃত ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমির মধ্যে ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। শতকরা হারে ৪৭ ভাগ পাকা ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আর কোনো দুর্যোগ না হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই হাওরের বাকি ধান ঘরে তোলা যাবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিন যাবত খারিয়াজুরী এবং মোহনগঞ্জ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং জমিতে রোদ পাওয়ায় বোরো ধান দ্রুত পাকছে। এদিকে ধান কর্তনের জন্য আরো কম্বাইন্ড হারভেস্টার এবং রিপার বাড়ানো হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক এফ এম মোবারক আলী জানান। তিনি জানান, বর্তমানে ৩৭১টি হারভেস্টার এবং ২০টি রিপার প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ধান কাটছে। আর বিপজ্জনক কীর্তনখোলা বাঁধের ৭ কিলোমিটারার এলাকা স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে আগামী বছর। গত সপ্তাহে এই বাঁধের তিন জায়গায় আগাম পানিতে ফাটল ধরেছিল। দিনরাত কাজ করের সেই ফাটল মেরামত করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত খালিয়াজুরীর কীর্তনখোলা বাঁধ নিয়ে জানান, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ধনু নদের পানি ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে বিপত্সীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে পানি প্রবাহ অনেক নিচে থাকায় হাওরের বাঁধ এলাকার মধ্যে আপাতত পানি প্রবেশের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পানি কবির বিন আনোয়ার গত বুধবার খালিয়াজুরী বোরো ধান এলাকা পরিদর্শনে গেলে কৃষকরা পাকা এবং স্হায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য দাবি জানায়। এ সময় তিনি বলেন, ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কীর্তনখোলা বাঁধের মধ্যে বিপজ্জনক ৭ কিলোমিটার বাঁধ এলাকা স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প তৈরী করা হচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও জেলা পিআইসি কমিটির সভাপতি কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে হাওরের বোরো ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য স্হায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় নকসা তৈরী করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এদিকে হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য এবং দ্রুত ধানকাটার জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
