‘আমরা নাটকের সঙ্গে কখনও শঠতা করি না’

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ১৫:৫০

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। গ্রামীন কমেডি নাটকে তার অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত। ঈদের কাজের ব্যস্ততা, অভিনয়ে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিসহ ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

ঈদের কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই-

আমি তো শুরু থেকেই একটু বেছে বেছে ভালো কাজগুলো করার চেষ্টা করি। তাছাড়া ঈদের সময় বৃন্দাবন লেখার কাজ নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকে। সেই জায়গায় আমি চাইলেও প্রতিদিন শুটিং করতে পারি না। তবু বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ এরইমধ্যে শেষ করেছি। এখন (গতকাল) ‘সুশীল ফ্যামিলি’ নাটকের শুটিংয়ে আছি। চলতি মাসের শেষে শুরু করব ‘পাল পাড়া’ নামের একটি নাটকের কাজ। যেটাকে আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট বলতে পারেন। এছাড়া নিয়মিত প্রচার হচ্ছে আমার ৩টি ধারাবাহিক নাটক।

‘পাল পাড়া’ নাটকটিকে বিশেষ বলার কারণ?

এখনই নাটকটি নিয়ে বলতে চাচ্ছি না। কারণ এখনও নাটকটি লেখা শেষ হয়নি। এটুকু বলবো, একটি পাল পাড়ায় গিয়ে সত্যিকারের লোকেশনে নাটকটির শুটিং করা হবে। নাটকটিতে আমি ছাড়াও বৃন্দবন, ভাবনা, চঞ্চল এবং আমার দুই ছেলে অভিনয় করার কথা রয়েছে।

ঈদের সময় নাটক যেমন বাড়ে তেমনি মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। সেই জায়গায় আপনার অভিনীত নাটকসহ অন্যান্য কাজের অবস্থা কেমন দেখতে পাচ্ছেন?

দেখুন, আমরা নাটকের সঙ্গে কখনও শঠতা করি না। আমরা দর্শকের চোখে ধুলো দিয়ে কাজ করতে চাই না। বৃন্দাবনও নাটক লেখার সময় যাতে অনেক বেশি স্টার কাস্ট করতে না হয়, নির্ধারিত বাজেটে ভালো কাজের ভেতর দিয়ে একটি বার্তা দেওয়া যায়, এই বিষয়গুলো মাথায় রাখে। তারপরও অনেকেই সমালোচনা করে থাকেন। কারণ সমালোচনা এখন সবচেয়ে সহজ কাজ।

শাহনাজ খুশি। ছবি: সংগৃহীত

ইদানিং গল্পনির্ভর কাজের প্রবণতা বাড়ছে। এতে চরিত্রাভিনেতাদের কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে কি-না?

ছেলেদের ক্ষেত্রে হয়তো বা হচ্ছে, কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে হচ্ছে না। ওটিটির যে কাজগুলো হয়েছে সেগুলোতে টিনেজ মেয়েদেরই দেখানো হয়েছে। আমরা যারা মধ্য বয়সী তারা মা-নানির চরিত্র তো করতে পারি না। আমাদের জন্য কেউ সেভাবে গল্পও তৈরি করছে না।

তারপরও ওটিটি নিয়ে শাহনাজ খুশির কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না?

না, আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি অভিনয় করলেই যে মাধ্যমটি সুন্দর হবে বিষয়টি তাও না। তবে মাধ্যমটিতে এরইমধ্যে বেশকিছু ভালো কাজ হয়েছে। আরও ভালো কাজ হোক। ভালো কাজ বেশি হলে আমাদেরও কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলবেন?

আমি আসলে যা দিতে চেয়েছি বা করতে চেয়েছি সেটা করতে পারিনি। আমাকে নিয়ে কোনো এক্সপ্রেরিমেন্টও কেউ কখনও করেনি। আমার সঙ্গে তেমন নির্মাতা, প্রযোজক বা টিভি চ্যানেলের সঙ্গে হয়তো যোগাযোগ বেশি না থাকায় এমনটা হয়েছে। অনেকেই বলেন, আমি গ্রামীণ গল্পে বেশি কাজ করি কেন? আসলে আমাকে এ ধরনের চরিত্রের বাইরে কেউ ডাকেন না। তাছাড়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যে ধরনের চরিত্র দিয়ে নজরে আসা হয় পরবর্তীতে সবাই সে ধরনের চরিত্রেই কাস্ট করতে চায়। তবে আমি মনে করি আমার অনেককিছু দেওয়া যোগ্যতা আছে। সেটার মূল্যায়ন তারা করতে না পারলে সেই ব্যর্থতা তাদের।

শাহনাজ খুশি। ছবি: সংগৃহীত

আপনার দুই ছেলে এরইমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু’র বায়োপিকসহ বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন। তাদের অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে কী ভাবছেন?

ওদের আসলে নিয়মিত অভিনয় করার সুযোগ নেই। তবে ওরা বিশেষ কাজগুলো করবে। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, ওরা ওদের বাবার লেখা নাটকের বাইরে কিন্তু খুব একটা কাজ করছে না।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আলোকে ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এখন কাজ করতে এলে কষ্ট লাগে। দিনদিন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বাজেট বাড়ছে না। ভালো কাজের ইচ্ছে নির্মাতাদের নেই, তা না। তবে উচ্চ পর্যায়ের লোকজন চাইলে এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন

ইত্তেফাক/এএএম