আপেল গাছে ফুল আসায় চাষের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) গবেষক কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মালেক।
গত ১২ এপ্রিল গবেষণা মাঠ পরিদর্শনের সময় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মালেক লক্ষ্য করেন আপেল গাছে ডালে একগুচ্ছ কমলা-সাদা রঙের ফুল ফুটেছে। তিনি গত ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ফুজি ও গোল্ডেন ডেলিসাস জাতের আপেল সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাত ২টি থেকে বীজ সংগ্রহ করে অঙ্কুরোদগম করতে সফল হোন এবং মাটি ও ভার্মিকম্পোস্ট ছিটানো ট্রেতে এগুলোর চারা তৈরি করেন।
এরপর চারার বয়স ৪ মাস হবার পর তিনি গবেষণা মাঠে ৫টি চারা রোপণ করেন, যার মধ্যে ২টি চারা নষ্ট হয়ে যায়। অবশিষ্ট ৩টি চারা তিনি নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করেন।
প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মালেক বলেন, আপেল চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংগৃহীত জাত থেকে আপেল চারা তৈরি করি। এখন গাছগুলো প্রায় ৭ ফুটের মতো লম্বা হয়েছে। ৩ বছর পর গাছে ফুল এসেছে। আশা করছি চলতি বর্ষা মৌসুমে সবগুলো গাছে ফুল আসবে। বীজের মাধ্যমে তৈরি গাছে আশানুরূপ ফল পেলে পরবর্তীতে অঙ্গজ প্রজননের (শাখা কর্তন, শাখা কলম, মূল কর্তন, ইত্যাদি) মাধ্যমে গাছের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরোও জানান, আপেল শীত প্রধান অঞ্চলের ফসল হলেও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটির চাষাবাদ হয়। কৃষিক্ষেত্রে উন্নতির ফলে দেশেও এর চাষ সম্ভব। সম্প্রতি দেশের গবেষকরা তা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। দেশে চাষ উপযোগী জাত উদ্ভাবনের চেষ্টাও চলছে।
এছাড়া গবেষণায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা এলে পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে আপেল চাষ নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
