শরণখোলায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলায় বেশির ভাগ পুকুরের পিএসএফ (পন্ড অ্যান্ড সেন্ড ফিল্টার) ও নলকূপ বিকল হয়ে পড়ে আছে। অতি খরায় গ্রামাঞ্চলের পুকুরের পানি শুকিয়ে তলানিতে পৌঁছেছে। মানুষ দূরদূরান্ত থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করছে। সাম্প্রতিক অনাবৃষ্টি ও অব্যাহত খরায় উপজেলার বেশির ভাগ পুকুরের খাবার পানি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের জাহিদুল, সোনাতলা গ্রামের রুস্তম আলী, ধানসাগর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন, জিলবুনিয়া গ্রামের গৃহবধূ শেফালী বেগমসহ অনেক গ্রামবাসী বলেন, বর্তমানে আমরা তীব্র খাওয়ার পানির সংকটে আছি। অনেক কষ্টে দূর থেকে বিভিন্ন উপায়ে পানি সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে। গ্রামের পুকুরের পানি তলানিতে গেছে যা খাওয়ার উপযোগী নয় বলে গ্রামবাসীরা জানান।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫৪৭টি পুকুরে স্নাপন করা পিএসএফের মধ্যে ৩৮৬টি অকেজো হয়ে রয়েছে এছাড়া গ্রামাঞ্চলে ৪৮০৪টি নলকুপের মধ্যে অচল হয়ে রয়েছে ২ হাজার ১৫২টি নলকূপ। অকেজো পিএসএফ ও নলকূপ মেরামতের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু বলেন, তার ইউনিয়নের ধানসাগর, পশ্চিম রাজাপুর ও বান্ধারহাট এলাকায় তীব্র পানির সংকটে লোকজন নদীর লোনাপানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে বলে চেয়ারম্যান জানান। শরণখোলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় অকেজো পিএসএফ মেরামতের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিগ্গিরই মেরামত করা হবে। তিনি আরো বলেন, ধানসাগর ইউনিয়নে তিনটি নতুন পুকুর ও উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে জেলা পরিষদের ১৮টি পুকুর পুনঃখনন করা হয়েছে। এসব পুকুরে ছয়টি পিএসএফ চালু রয়েছে বলে ঐ প্রকৌশলী জানিয়েছেন।
