প্রেসিডেন্টের কারণে পাকিস্তানে মন্ত্রিসভা গঠনে নাটকীয়তা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ১০:৪৪

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেহবাজ শরীফ দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেননি। এই বিলম্ব যেন কাটছেই না। সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন নাটকীয়তা। সোমবার (১৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বেঁকে তা আর হয়নি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হহয়,  আরিফ আলভি শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর পর মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের অস্বীকৃতির পর আসরে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির সিনেটের চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) তিনিই পাকিস্তানের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।

জানা যায়, সোমবার (১৮ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি আইন প্রণেতাদের শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয় শেহবাজ শরীফের সরকার।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সিনেটের চেয়ারম্যান সাদিক সানজরানি কমপক্ষে ৩০ জন ফেডারেল মন্ত্রী এবং চারজন প্রতিমন্ত্রীকে আজ শপথ পড়াবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পিএমএল-কিউ-এর চৌধুরী তারিক বশির চিমা মন্ত্রিসভায় থাকার কথা থাকলেও আজ তিনি শপথ নেবেন না।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ডন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি মঙ্গলবারের (শপথগ্রহণ) অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না এবং সিনেটের চেয়ারম্যান সানজরানি মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।

ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আলভি অসুস্থতার অজুহাতে মঙ্গলবার আবারও ছুটিতে যাবেন যেন সাদিক সানজরানি (শপথ পড়ানোর) দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অন্যদিকে, মন্ত্রিত্ব বণ্টন নিয়ে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজলের (জেইউআই-এফ) সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ রয়েছে। তারা মন্ত্রিসভায়ও থাকতে চাচ্ছে না। তবে সরকারের মিত্র হয়ে থাকবে বলে জানা গেছে। এ কারণে শেষ মুহূর্তে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে রবিবার মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ। বৈঠকে ছিলেন বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) ও বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) প্রতিনিধিরাও।

জানা গেছে, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারি তার প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার করেছেন। এর আগে জোটের ‘গ্যারান্টর’ হিসেবে মন্ত্রিত্ব বণ্টনে শরিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নতুন সরকারের সম্ভাব্য তথ্যমন্ত্রী মরিয়াম আওরঙ্গজেব বলেন, পিএমএল-এন ১৪টি ও পিপিপি ১১টি মন্ত্রণালয় পাবে। জেইউআই-এফ এবং মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টসহ (এমকিউএম) জোটের সব শরিককে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পিএমএল-এনের মুখপাত্র জানান, প্রতিরক্ষা, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও বিচার, রেলওয়ে, তথ্য, জ্বালানি, পরিকল্পনা ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে চায় তারা।

ইত্তেফাক/টিআর