বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া ফুটবলার এলিটা কিংসলে মোহামেডানে খেলবেন না। কিছু দিন আগে মোহামেডানের কর্মকর্তা আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স জানিয়েছিলেন এলিটা কিংসলে মোহামেডানে খেলবেন। বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শনলেন প্রশ্ন করলেন, এলিটা কিংসলে খেলবে কে বলেছে? আরও ১০ দিন আগে আমি নিজে এলিটার সঙ্গে কথা বলেছি, ও খেলবে না। এলিটা বলেছে, আমি একটা ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, খেলবো কেন।’
গতকাল দুপুরে মোহামেডান টেন্টে কোচ শনলেনের ঘরে বসে কথা হয় এলিটা প্রসঙ্গে। কোচের সঙ্গে আলোচনায় বলা হচ্ছিল এলিটা মোহামেডানে খেললে সুলায়ামান দিয়াবাতের সঙ্গে জুটি বেধে এলিটা গোল পেতো। জাতীয় দলের ঢোকার জন্য পথটাও সহজ হতো। শনলেন বললেন, ‘সবই হতো। কিন্তু এটা তো তার সিদ্ধান্ত। না খেললে কিছু করার নেই। তোমরা সাংবাদিকরা লিখে ভরে ফেলো এলিটা মোহামেডানে খেলবে।’
মধ্যবর্তী ফুটবল দলবদলে মোহামেডান ছেড়ে দিয়েছে সাইফ, তপু, মামুনুল ইসলাম এবং তকলিস আহমেদকে। মামুনুল রহমতগঞ্জে যোগ দিয়েছেন। তকলিস একটি ম্যাচও খেলেননি সাদাকালো জার্সি গায়ে। কোচ শনলেন বললেন, ‘তকলিসকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সে ইংল্যান্ডে রয়েছে। সেখানে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমাকে তকলিস বলেছিল সে আসবে। কিন্তু প্রথম পর্বের ১১ ম্যাচ চলে গেলেও তকলিসের দেখা পাইনি।’
মোহামেডান চার জন নতুন ফুটবলার নিয়েছে। বাফুফের এলিট একাডেমির মিরাজুল ইসলাম, বসুন্ধরার মুরসালিনকে নেওয়া হয়েছে। কোচ বললেন, ‘আমি মেহেদীকে চেয়েছিলাম দেয়নি।’ ইংল্যান্ড হতে একজন ফুটবলার পরশু বিকালে ঢাকায় এসেছেন। মুহায়মিন নামের এই ফুটবলার ট্রায়ালে রয়েছেন। নাবিল নামের আরও একজন আসবে আজ। তারও ট্রায়াল নেওয়া হবে। ২১ এপ্রিল নাম জমা দেওয়ার শেষ সময়।
বর্তমান দলে যারা আছেন তাদের নিয়েই মোহামেডান এগিয়ে যেতে চায়। লিগের প্রথম পর্ব শেষে মোহামেডান ১১ দলের মধ্যে পঞ্চম স্হানে রয়েছে। ১১ খেলায় ৪ জয়, ৫ ড্র এবং হার ২টি। পয়েন্ট ১৭। এখন পঞ্চম স্হান হতে চতুর্থ স্হানে উঠে লিগ শেষ করতে পারলে তাতেই খুশি ইংলিশ কোচ। ফুটবলে মোহামেডান যে দলটি গঠন করেছে এবার সেটি খুব একটা শক্তিশালী না।
অন্যান্য ক্লাব যেসব খেলোয়াড়কে নিতে আগ্রহী না তাদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে। গোলকিপার সুজন শেখ জামালে দুই তিন ম্যাচ খেলেছেন। সাকিব ও আসিফ বিকেএসপির। রাকিব তৃতীয় বিভাগের খেলোয়াড়, বালু ও আলমগীরকে ছেড়ে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, ফাহিম, মাসুদ, মনা রেলিগেটেড নোফেলের খেলোয়াড়। ইমন শাহরিয়ার সেনাবাহিনী হতে এসেছেন। ইমন খান পেশাদার ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কায়সার হামিদের ছেলে সাদাত হামিদ কখনো প্রিমিয়ার ফুটবলে খেলেননি। আরেক সাবেক তারকা আবুলের ছেলে আবিদ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ঢাকার ফুটবলে টিকে থাকার লড়াই করছেন। মোহামেডানের ডেরায় এই সব মানের ফুটবলার নিয়ে কসরত চলছে কীভাবে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়। মোহামেডান কোচ হতাশ না, তার যা তুলে দেওয়া হয়েছে তা নিয়েই তিনি চেষ্টা করবেন। বলছিলেন, যদি আমি চতুর্থ স্হান নিয়ে লিগ শেষ করতে পারি তাহলে সেটা আমার কাছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই আনন্দ পাবো। কোটি কোটি সাদাকালো সমর্থকের মনে সেই প্রশ্নটা থেকেই গেলো, তাহলে কবে লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে মোহামেডান। আর কত অপেক্ষা করতে হবে।
