নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টার সমালোচনায় শি জিনপিং

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪২

বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও ‘বিদেশিদের আইনি হস্তক্ষেপের’ বিরুদ্ধে চীনের অবস্হানের বিষয়টি ফের তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলো যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্হা নিয়েছে সেগুলোর প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ করেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ হাইনানে এশিয়ার ২৫টি দেশ ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্হিতিতে বার্ষিক এ সম্মেলনে দেওয়া ভিডিও ভাষণে শি সতর্ক করে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পৃথক করে দেওয়ার চেষ্টা এবং সরবরাহ চেইন ছিন্নের মতো চাপ প্রয়োগের কৌশল কাজে আসবে না। 

তিনি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন স্হিতিশীল করার চেষ্টা জরুরি। চীনের অর্থনীতি স্বাভাবিক হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বদলায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এ শীর্ষ নেতা। শি বলেন, ‘চীন একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ হাজির করতে পারে যা নিরাপত্তার অবিভাজ্যতার নীতি বজায় রাখবে। আমাদের উচিত নিরাপত্তার অবিভাজ্যতা নীতি বজায় রাখা; ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও স্হিতিশীল নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এবং অন্য দেশকে অনিরাপদ করে এমন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্হা গড়ে তোলার বিরোধিতা করা।’

কোভিড-১৯ এর বিস্তৃতি, বিশেষ করে অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাংহাইয়ের সংক্রমণ পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেইজিংয়ের নেওয়া আগ্রাসি সব পদক্ষেপের কারণে চীনের অর্থনীতিকে এখন খানিকটা অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে বোয়াও ফোরামে দেওয়া ভাষণে শি চীনের কোভিড পরিস্হিতি নিয়ে কিছু বলেননি। 

বার্তা সংস্হা রয়টার্স বলছে, রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞাসহ চীন ধারাবাহিকভাবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসলেও মস্কোকে সহায়তার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করছে, কারণ রাশিয়াকে সহায়তা বেইজিংয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ করে দিতে পারে।

রাশিয়াও পশ্চিমা সরকারগুলোকে ‘অবিভাজ্য নিরাপত্তা’ নীতির ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৯ সালে হওয়া একটি সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখাতে চাপ দিচ্ছে; ঐ সমঝোতা অনুযায়ী, কোনো দেশই অন্য দেশের নিরাপত্তা খর্ব করে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বেইজিং এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানায়নি। তারা ইউক্রেন সংকটের জন্য ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণকেই দায়ী করছে।

- রয়টার্স

ইত্তেফাক/জেডএইচডি