যুদ্ধে ইউক্রেনের অবকাঠামোগত ক্ষতি ৬ হাজার কোটি ডলার

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২২, ০৭:১৫

রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ইউক্রেনের ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ মোট অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ কমবেশি ৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের এক সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

ম্যালপাস বলেন, ইউক্রেনের জন্য আর্থিক সহায়তা নিরূপণে প্রাথমিক যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে, তাতে সেই দেশের যুদ্ধের পেছনে বেড়ে চলা আর্থিক খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধ এখনো চলছে, তাই এসব খরচও বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরো বড় পরিসরের খরচ ও আর্থিক চাহিদার কথা তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাশিয়ার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে তার দেশের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা পোষাতে মাসে ৭০০ কোটি ডলার দরকার এবং পরে এই ধ্বংসাবশেষ পুনর্গঠনে ‘শত শত কোটি ডলার’ প্রয়োজন হবে।

রাশিয়াকে তাত্ক্ষণিকভাবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে সব দেশের অবশ্যই ‘ত্বরিত পদক্ষেপ’ নিতে হবে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভার পার্শ্ব কর্মসূচি হিসেবে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যেসব দেশ রাশিয়ার অর্থ জব্দ করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেছে, সেসব দেশের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান, ঐ অর্থ তারা যেন ইউক্রেনের পুনর্গঠনে এবং অন্য যেসব দেশ এই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহায়তার জন্য খরচ করে।

এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেন বলেন, ইউক্রেনের পুনর্গঠনের খরচের একটি অংশ রাশিয়ার বহন করা উচিত। আর এটা নিশ্চিত, ইউক্রেনের পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে অর্থ অবরুদ্ধ হয়েছে, তা ইউক্রেনের পুনর্গঠনে খরচ করার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন জেনেট ইয়েলেন। তিনি বলেন, এটা ‘তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ’ হবে, যার জন্য আলোচনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয় থাকবে। এ সম্মেলনে সশরীরে অংশগ্রহণকারী ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল জানান, যুদ্ধের সরাসরি ক্ষতির বিবেচনায় ইউক্রেনের জিডিপি এ বছর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাবে এবং পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে যা ইউক্রেনের অর্থনীতির আকারের তিন গুণ, ২০২০ সালের তথ্যানুযায়ী সেদেশের অর্থনীতির আকার ছিল ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। ডেনিস শ্মিহাল বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা যদি এই যুদ্ধ থামাতে না পারি, তাহলে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে।’ ইউক্রেনের পুনর্গঠনের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মার্শাল প্ল্যানের মতো বিশাল একটি আর্থিক কর্মসূচি নিতে হবে বলে মনে করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

ইত্তেফাক/এএইচপি