সূর্যমুখীতে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২২, ১৩:৫০

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মাঝে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। মাঠে মাঠে হৃদয় জড়ানো সোনালীর সমারোহ। হাজার হাজার সূর্য যেন সকলকে হাত ছানি দিচ্ছে। সূর্যমুখী তেলের ব্যাপক চাহিদারা কারণে মোরেলগঞ্জে সূর্যমুখী চাষের আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে। পতিত জমিতে স্বল্প ব্যয়ে অধিক ফলনে লাভবান হওয়ায় এ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৩০ হেক্টর তথা ৭৫ একর জমিতে এবারে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষক। তেল ফসল প্রকল্পের মাধ্যমে সূর্যমুখী প্রদর্শনী রয়েছে ৩২টি। এছাড়াও ১০০ চাষিকে  জন প্রতি ১ কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। গাজীরঘাট গ্রামের চাষি নুরুল ইসলাম ৬৬ শতকের ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এতে তিনি ১০ মন ফলন পাবেন বলে ধারনা করছেন। যার মূল্য হবে ৯০ হাজার টাকা। তেল হবে ১৫০ কেজি। খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। একই গ্রামের ইদ্রিস সরদার ১ একর জমিতে ফসল ফলাতে ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। সূর্যমুখীর ফলন খুবই ভালো হয়েছে। 

চাষি আনসার সরদার, সাইফুল তালুকদার, শফিকুল সরদার, রাণী বেগমসহ একাধিক চাষিরা বলেন, নতুন সূর্যমুখী চাষ করে খুবই ভালো ফলন হয়েছে। তেল জাতীয় ফসলের কৃষকদের সভাপতি সাইফুল তালুকদার বলেন, এলাকার ৩০ জন কৃষকদের সমন্বয়ে তাদের এ কমিটি। কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে প্রত্যেক চাষিরা এবারই প্রথম সূর্যমুখীর চাষ করেছেন, ফলনও ভালো হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, এ এলাকায় দেশী আমন ধান ওঠার পরে পতিত জমিতে এবারে চাষিদের নতুন ফসল সূর্যমুখী চাষ ও তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্যাটার্ন ভিত্তিক একক প্রদর্শনী উদ্ভুদ্ধকরনসহ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। 

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় এ বছরে ৭৫ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। গত বছরে চাষিরা ৫০ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছিলেন। অন্যান্য ভোজ্য তেলের চেয়ে সূর্যমুখী তেল আলাদা। কোলষ্টেরল মুক্ত এবং প্রচুর পরিমাণ প্রাণশক্তি থাকায় এ তেল আমাদের শরীরের দুর্বলতা ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নায় সয়াবিন তেলের চাইতে এ তেল দশগুণ বেশী পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। তাই কৃষকদের দিন দিন সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। 

 

ইত্তেফাক/এআই