পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ও আংগারিয়া ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী দুমকি পীরতলা খালটি দিয়ে একসময় বড় বড় নৌকা চলত। দুমকি, শ্রীরামপুর ও আংগারিয়ার হাজার হাজার মানুষ কৃষিকাজ, গোসলসহ গৃহস্থালি কাজে এই খালের পানি ব্যবহার করত। এখন পানি ব্যবহার করা দূরে থাক, ময়লার গন্ধে এই খালের পাশ দিয়ে হেঁটে চলাও দায়।
ময়লার দুর্গন্ধে ২০১৯ সালে খালের পাশে অবস্থিত সৃজনী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া খালে নির্বিচারে বর্জ্য ফেলায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। দখল আর দূষণে অস্তিত্বের সংকটে খালটি। এভাবে চলতে থাকলে দুই-এক বছরে পুরোপুরি ভরাট হয়ে খালটি হারিয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালটি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে এবং গুঁড়িয়ে দেয় সেনাবাহিনী। কিন্তু পরে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্র খালের কয়েকটি জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ বন্ধসহ বাড়ি নির্মাণ এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলা অব্যাহত রেখেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের থানা ব্রিজ এলাকা থেকে উত্তরের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে উভয় তীরে চলছে বেপরোয়া দখলদারিত্ব। বাজারের পুরাতন ব্রিজ (থানার পুল) এলাকা থেকে সৃজনী বিদ্যানিকেতন হয়ে উত্তরে আরো ১০ মিটার জুড়ে খালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভিটা মালিকদের দখলে চলে গেছে। বাজারের পুরাতন ব্রিজ থেকে দক্ষিণের ব্রিজ পর্যন্ত খালের উভয় তীর ভরাট করে অস্থায়ী-স্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বছরের পর বছর অবাধে দখল চললেও দেখার যেন কেউ নেই।
দুমকি পীরতলা বাজারের ব্যবসায়ী রাজীব সাহা, মাসুদ রানা, জাকির হোসেন, সঞ্জীব সাহা, রুবেল ও সৃজনী বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন ও বাজার কতৃর্পক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম ছালাম বলেন, খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে খালটি পুনঃখনন করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পীরতলা বাজার কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ময়লা-আবর্জনায় এটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গার বাঁধ কেটে, স্লুইসগেট অবমুক্ত করে পানির প্রবাহ গতিশীল করা এবং পুনর্খননের মাধ্যমে খালের নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, খালটি জরুরি ভিত্তিতে ময়লা অপসারণ করে খনন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ মাসিক সমন্বয়সভায় আলোচনা হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা ও অর্থাভাবে ময়লা স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। তবে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে ময়লাগুলো অন্যত্র অপসারণ করা যেতে পারে।
