সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। রবিবার (২৪ এপ্রিল) ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মেয়র।
সম্প্রতি কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে আবেদন জানান মোশাররফ হোসেন রুবেলের স্ত্রী চৈতি ফারহানা। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে মেয়র আজ এই নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, যে মানুষটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন, সে মানুষটি চিরবিদায়ের বেলায় এক টুকরো মাটি পাবে না, তা হতে পারে না।
গত ২২ এপ্রিল স্বামীর কবর জিয়ারত শেষে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন করে চৈতি ফারহানা বলেছেন, তার স্বামীর কবরের জায়গাটুকু যেন স্থায়ী করে দেওয়া হয়। বনানী কবরস্থানের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত একজন ব্যক্তির কবর দুই বছর পর তুলে দেওয়া হয়। সেখানে স্থান পায় অন্য কারো কবর। আর যারা কবর স্থায়ী করতে চায় তাদের খরচ করতে হয় প্রায় কোটি টাকা।
গণমাধ্যমকে চৈতি ফারহানা বলেন, ‘দুই বছর পর তো এই কবরটা অস্থায়ী হয়ে যাবে, কবরটা তুলে ফেলা হবে।’ তিনি বলেন, ‘রুবেল তো আমাদের সবার, সে দেশের জন্য খেলেছে। মাত্র দুই বছরের জন্য এখানে আছে। এখানে কবর স্থায়ী করতে হলে অনেক টাকা লাগে। প্রায় এক কোটি টাকার মতো। আমার কাছে তো এত পরিমাণ টাকা নেই। খুব করে চাই কবরটা স্থায়ী হোক। রুবেল যেন একটু মাটি পায়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোশাররফ রুবেলের স্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই চাওয়া। তিনি তো অনেকের জন্য অনেক কিছু করেন। আমাদের ক্রিকেটারদের জন্যও অনেক কিছু করেন। একজন মৃত ক্রিকেটারকে কী এক টুকরো মাটি দেবেন না, একটা কবরের জায়গা! এর বেশি চাওয়া নেই আমার। রুবেলের জন্য একটু স্থায়ী মাটি, যেন ছেলেটা এসে দেখতে পারে। আমরা এসে একটু দেখতে পারি। দুই বছর পর তুলে ফেললে আমরা তো আর দেখতে পারবো না। রুবেল তো কোথাও নেই। শুধু এখানেই আছে। ওর অংশ তো শুধু এখানেই আছে। রুবেল তো হারিয়ে গেছে। ওর শরীরটা যেন এখানে থাকে। আর কিছু চাই না আমি।’
২০১৯ সাল থেকে অসুস্থ ছিলেন মোশাররফ রুবেল। সে সময় থেকেই তার পাশে ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ জন্য বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চৈতি ফারহানা। তিনি বলেন, ‘ওনারা সবসময় আমাদের পাশে ছিল। রুবেলের অসুস্থতার সাড়ে তিন বছরের জার্নিতে আমরা সবসময় সবাইকে পেয়েছি। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, আমাদেরকে আগলে রাখার জন্য। নয়তো এই কঠিন জার্নিটা আরও কঠিন হয়ে যেতো, মাঝপথে বন্ধ হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সবাই, বিশেষ করে বিসিবি, খেলোয়াড়রা, প্রতিষ্ঠান, সবাই এগিয়ে এসেছে। পারসোনালি রুবেলের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-স্বজন সবাই সঙ্গে ছিল।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের দল ঘোষণা