হামলাকারী ফয়জুল হাসানের প্রতি নয়, বরং যারা তাকে ভুল বুঝিয়ে ভুল পথে ঠেলে দিয়েছে, তাদের প্রতি ক্ষোভ আছে বলে জানিয়েছেন লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ওই ছেলেটার (ফয়জুল হাসান) ওপরে আমার কোনো রাগ নেই। কাজেই তার শাস্তি হয়েছে, সে জন্য আমি আনন্দিত, এ ধরনের কোনো ফিলিংস আমার ভেতরে নেই। বরং বলা যেতে পারে, তার প্রতি আমার করুণা আছে, মায়া আছে। ওরা এমনই মানুষ, সে জানে যে আমাকে কিংবা আমার মতো একজনকে মার্ডার (খুন) করলে বেহেশতে যাবে।’
মুহম্মদ জাফর ইকবাল আরও বলেন, এখন এই ছেলেটা (ফয়জুল হাসান) সারা জীবন জেলখানায় কাটাবে। অথচ যারা তাকে বুঝিয়ে এসব কাজের জন্য নামিয়ে দিয়েছে, তাদের কিছুই হবে না। এ নিয়ে আমার ভেতরে ক্ষোভ আছে।’
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল হত্যাচেষ্টা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে ফয়জুল হাসান নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া একজনকে চার বছরের কারাদণ্ড ও বাকি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব এ রায় ঘোষণা করেন।
২০১৮ সালের ৩ মার্চ বিকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় মাদরাসা ছাত্র ফয়জুল হাসান। এ ঘটনায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জালালাবাদ থানায় মামলা করেন। ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই হামলাকারী ফয়জুল ও তার বাবা-মা, ভাইসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। ওই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।
