নাটক নিয়ে নিয়মিতই ব্যস্ত সময় পার করেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। ঈদে সেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এবার ঈদেও তাকে ১৫টির মতো নাটকে দেখতে পাবেন দর্শকরা। নিজের ব্যস্ততা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে।
গত ঈদে আপনার ৫০টি নাটক প্রচার হয়েছিল। এত নাটকে অভিনয় করায় যেমন আলোচনা হয়েছে তেমনি সমালোচনাও হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আসছে ঈদে কতগুলো নাটকে অভিনয় করছেন?
দেখুন, গত ঈদে কিন্তু আমি একসঙ্গে এতগুলো নাটকে অভিনয় করিনি। করোনার কারণে জমে থাকা ২০টির মতো পুরনো নাটক প্রচার হয়েছিল। একজন শিল্পীর এক ঈদে ২০/২৫টির বেশি নাটকে কাজ করা সম্ভব হয় না। ঈদে এবার সব মিলিয়ে আমার ১৫টি নাটক প্রচার হতে পারে। গত ঈদে বেশি নাটক প্রচার হওয়ায় দর্শকরা মনে করেছেন যেহেতু এত নাটকে অভিনয় করেছি সেহেতু মান খারাপ হয়েছে। কিন্তু এবারের ঈদের নাটকে মান নিয়ে সচেতন ছিলাম। ভালো গল্প, পরিচালক, সহশিল্পীর জন্য অপেক্ষা করেছি।
তাহলে ঈদের নাটকে ভিন্নতা কেমন থাকছে?
এবারের প্রতিটি নাটকের গল্পেই ভিন্নতা থাকছে। এক কথায় বলা চলে, দুর্দান্ত কিছু গল্পে অভিনয় করেছি। সেই তালিকায় থাকা মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘শুরুটাই সুন্দর’, শিহাব শাহিনের ‘হাফচান্স’, রাফাত মজুমদার রিংকুর ‘সাইলেন্স’, মিফতাহ আনানের ‘রূপকথা নয়’, ভিকি জাহেদের ‘চোখ’, ‘পরাণ’, ‘সাক্ষ্য’, তৌফিক ইসলামের ‘চড়ুইজোড়া’, ‘নবাবীপ্রেম’সহ প্রতিটি গল্পেই ভিন্ন ভিন্ন চমক থাকছে। সবগুলো নাটকেই সুন্দর একটি ম্যাসেজ আছে। আমার বিশ্বাস, নাটকগুলো দেখার পর কিছু না কিছু চেতনা জাগ্রত হবে সবার ভেতর।
ঈদের সময় একসঙ্গে অনেক নাটকে কাজ করতে হয়। একটি চরিত্র শেষ হতে না হতেই অন্য চরিত্রে ঢুকতে হয়। এই কাজটি কীভাবে সামলে ওঠেন?
যখন স্কুলে পড়তাম তখন দেখতাম ক্লাসের ভালো স্টুডেন্টরা হোম ওয়ার্ক করতো। তাতেই তারা ৫০ শতাংশ এগিয়ে যেত। আমার ৮ বছরের ক্যারিয়ারে বুঝেছি হোম ওয়ার্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কোন গল্পে দাড়ি রাখবো, কোন গল্পে দাড়ি ক্লিন করবো, এরপর কোন গল্পে কাজ করা সম্ভব হবে, সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে গেটআপে ৫০ শতাংশ হয়ে যায়। সত্যি কথা বলতে, একটি চরিত্র থেকে বেরিয়ে অন্যটিতে ঢুকতে গেলে প্রথমে অনেক কষ্ট হয়। দেখা যায় ঢাকার ভাষার মধ্যে চট্টগ্রামের ভাষা চলে আসে। অনেক চেষ্টা করে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিক দিয়ে অনেক আলোচনায় এসেছিলেন। এরপর এই নাটকটিতে দর্শকরা আপনাকে পাচ্ছে না। কেন কাজ করা হচ্ছে না বা ভবিষ্যতে নাটকটিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি-না?
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দিয়ে আমি দর্শকদের যে পরিমাণ সাড়া পেয়েছি আমার জীবনে অন্য কোনো নাটক দিয়ে আমি তেমন সাড়া পাইনি। চার-পাঁচ বছর আগে যে কাজটি করেছি সেটার সাড়া আমি এখনও পাচ্ছি। পরিচালক যদি চান তাহলে হয়তো সিজন ৫-এ জয়েন করতেও পারি!
আপনার সমসাময়িক অনেকেই ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করছে। কিন্তু আপনাকে এই মাধ্যমে দর্শকরা পাচ্ছে না। মাধ্যমটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমি নিজেকে লম্বা রেসের ঘোড়া ভাবি। অনেকদিন টিকে থাকতে চাই। ওটিটি এসেছে বলে আজই কাজটি করে ফেলতে হবে বিষয়টি তেমন না। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে চাই। যখন মনে হবে এই কাজটি করলে দর্শকপ্রিয়তা পাবো তখন সেই কাজটি দিয়ে যাত্রা শুরু করব। তার আগে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছি।
