দিনাজপুরে বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২৯

ভরা গ্রীষ্মকালেও দেখা যাচ্ছে শীতের সেই শিশিরবিন্দু ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। আবার বর্ষকালের মতো স্যাঁতসেঁতে বাড়ির মেঝে ও দেওয়াল। এই আবহাওয়ায় অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন। অনেকেই মনে করছেন এটা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত দুদিনে এই এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দিনে রয়েছে কড়া রোদ। আবার ভোরে কুয়াশা। বেশ কিছুদিন থেকেই মধ্যে মধ্যে ঘরের মেঝে ও দেওয়াল হচ্ছে স্যাঁতসেঁতে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের বাবুল হোসেন জানালেন, সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখি শীতের সকালের মতো পরিবেশ। শীতের মতো ঘন কুয়াশা, আর ঘাসে ও বোরো ধানের শীষে শিশিরবিন্দু।

তিনি বলেন, প্রথম বারের মতো দেখলাম গ্রীষ্মকালে শীতের মতো এই আবহাওয়া। ভোর রাতে রীতিমতো কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমোতে হচ্ছে। অন্যান্য বছর এই গরমকালে পাখার বাতাসের জন্য অস্থির হয়ে যেতে হয়।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মনসুর আলী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি দেখছেন তার ঘরের মেঝে ও দেওয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাচ্ছে। ঘরের মেঝে বারে বারে মুছতে হচ্ছে। এ রকম কয়েক দিন আগেও হয়েছিল।

তবে আবহাওয়া অফিসের কমকর্তারা বলছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকার কারণেই এমন হচ্ছে। গতকাল সোমবার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিলো ৮০ শতাংশ।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুর রহমান বলেন, গরমকালে শিশির কিংবা কুয়াশাঘেরা সকাল-সন্ধ্যা দেখে ভয়ের কিছু নেই। এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক বিষয়। মাঝে-মধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পরে অনেক সময় কুয়াশা পড়ে। এতে ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। অপরদিকে রোদে প্রখরতা আছে। তাই পরিবেশে এই উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইউবি