পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীর খাবারে পঁচা কলা ও বাসি রুটি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ১৮:২৪

নওগাঁর পত্নীতলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত মেন্যু ও মান অনুয়ায়ী রোগীদের খাবার সরবাহ না করে পঁচা কলা, খাবার অনুপযোগী বাসি পাউরুটি সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

রোগী বা তাদের স্বজনরা এ বিষয়ে অভিযোগ করলে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানী করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও সবাই যেন জেনেও না জানার ভান করছে।

সরেজমিনে সোমবার সকালে পত্নীতলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ২০জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ভর্তি থাকা রোগী শরিফুল, ফাতেমা বেগম, মতিবুল ইসলাম, আরশেদুল, মোবারক, শরিফা বানুসহ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে নাস্তা হিসাবে পঁচা কলা ও বাসি রুটি দেওয়া হয় যা খাওয়া যায় না। দুপুরের ভাত দেওয়া হয় বিকেল ৩টায়। ভাতের চাল এতই নিম্নমানের যে মুখে দেওয়া যায় না। অনেক সময় ভাতের ভিতর থেকে পোকাও পাওয়া যায়। 

তরকারি হিসাবে সরবরাহ করা হয় সিলভার কার্প মাছ বা মাংসের ছোট টুকরা। দুপুর ও রাতে একই ধরণের খাবার দেওয়া হয়। এ সকল মানহীন খাবার তারা নিতে না চাইলেও ঠিকাদারের লোকজন জোর করে দিয়ে যায়। কিছু বললে তারা বলে, খেতে না পারলে ফেলে দেন। সকল রোগ ও সকল বয়সীদের জন্য একই ধরণের ধাবার দেওয়া হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি থাকা একজন রোগীর জন্য খাবার বাবদ প্রতিদিন ২শত টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ টাকা দিয়ে রোগীকে সকালের নাস্তা এবং রাতে ও দুপুরে ভাত সরবরাহ করার কথা। নাস্তাতে কলার সঙ্গে ১শ গ্রাম ওজনের একটি পাউরুটি দিতে হবে। দুপুরের ও রাতের খাবারের সঙ্গে তরকারি হিসাবে রুই মাছ বা ২৫০ গ্রাম পরিমাণ মাংস সরবরাহ করার কথা। 

সপ্তাহের রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিনে রোগীদের মাংস করবরাহ করার কথা রয়েছে। গত এক যুগ ধরে বিপ্র টেড্রাস নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের খাবার সরবরাহ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকা আর এম ও ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদারকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহম্মেদ বলেন, খাবারের বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যারকে জানিয়েছি। 

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের খাবারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন: পত্নীতলায় মসজিদের ঈমাম নিখোঁজ

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের দায়ে অভিযুক্ত  ঠিকাদার বিমান কুমার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কোন খারাপ খাবার পরিবেশন করি না। মেন্যু অনুযায়ী রোগীদের খাবার পরিশেন করা হয়। যারা অভিযোগ করছে তারা মিথ্যা অভিযোগ করছে।

ইত্তেফাক/নূহু