শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ফুলবাড়ীর ঈদবাজার

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২২, ১৩:৩৮

আর মাত্র দুই-তিন দিন পরেই ঈদ। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর বাজারসহ গ্রামের হাট বাজারগুলোতে ঈদবাজার। সকাল থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। সব বয়সী ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলো। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় আর বেচাকেনার ব্যস্ততায় দম ফেলানোর ফুসরত নেই বিক্রেতাদের। 

শনিবার (৩০ এপ্রিল) সরেজমিনের পৌর শহর মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কসমেটিকস, জুতার দোকান, কাপড়ের দোকান, মুদিখানা দোকানসহ বিপণী বিতানগুলো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

লাকী বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম ও মনেরেখ শাড়ি ঘরের সত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই বাজারমুখী ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিটি মার্কেট ও বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে ক্রেতাদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ বছর জামদানী, পিওর জরজেট, পনিপুরী সিল্ক, ওরগেঞ্জা, দেশি ব্লক, দেশি তাঁতের শাড়ি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ফ্রি পিচের মধ্যে শারারা, সারাবা, লেহেঙ্গা, ওরগেঞ্জা, তাঁত, আড়ং, বুটিক্স প্রভৃতি বেশি বিক্রি হচ্ছে।  

পরিবারের সবার জন্যই সাধ্যমতো কাপড় চোপড় কিনছেন সবাই

তারা আরও বলেন, ধান এখনও উঠতে দেরির কারণে গৃহস্থদের হাতে তেমন টাকা পয়সা নেই। এ কারণে ঈদের বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। কারণ বর্তমানে প্রতিদিন এক লাখ টাকার মতো বেচাকেনা হচ্ছে। কিন্তু ধান ওঠলে সেটি অন্তত দেড় থেকে আড়াই লাখে উঠতো। 

কেনাকাটা করতে আসা এনজিও কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, পরিবারের লোকজনদের কাপড়-চোপড় কিনতে মার্কেটে আসা। মানুষের মধ্যে আনন্দ থাকলেও মার্কেটে এসে সবকিছুর যেভাবে দাম বাড়ছে তাতে করে সেই আনন্দ ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে।  

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বাদল মিয়া, সাইফুল ইসলাম ও সোহেল রানা বলেন, করোনার দুই বছর যে লোকসান হয়েছে এ বারের ঈদে সেটি উঠে যেতো গৃহস্থের গোলায় যদি ধান উঠে থাকতো। তবুও ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

বেচাকেনার ব্যস্ততায় দম ফেলানোর ফুসরত নেই বিক্রেতাদের

বড় মার্কেট ও বিপণী বিতানের সাথে সাথে স্থানীয় গামার গলির মার্কেটও জমে উঠেছে। এই মার্কেটটি মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের মার্কেট হিসেবে পরিচিত সকলের কাছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ মার্কেটেও দোকানগুলোতে পা ফেলানোর জায়গা থাকছে না। 

এই মার্কেটের ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী, তমাল হোসেন, ও নবীউল ইসলাম বলেন, ক্রেতাদের যেমন ভিড় বাড়ছে, তেমনি আশানুরূপ বেচাকেনাও হচ্ছে। আশা করছেন গত দু’বছরের লোকসান এ বছর পুষিয়ে নেবেন।

রিকশা-ভ্যানচালক আজিবর আলী বলেন, পরিবারের সবার জন্যই সাধ্যমতো কাপড় চোপড় কিনেছেন। তবে নিজের জন্য কিছু নিতে পারেননি। পরিবারের অন্যদের কিনতে পেরেছেন এতেই তিনি খুশি।  

সব বয়সী ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলো

থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে পতিটি মোড়ে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে রয়েছে পুলিশি টহল। 

ইত্তেফাক/এআই