বাদি চেনেন না তারপরও তারা ধর্ষণ মামলার আসামি!

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২২, ১৫:০৬

সিলেটের ওসমানীনগর থানায় দায়েরকৃত একটি ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনকেই চেনেন না মামলার বাদী এক গৃহবধূ। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে ঐ গৃহবধূ আদালতে এফিডেভিট প্রদানপূর্বক এজাহারভুক্ত পাঁচ জনকে চেনেন না এবং তাদেরকে তিনি মামলায় অভিযুক্ত করেননি বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ঐ গৃহবধূ কতিপয় প্রভাবশালীর কাছে বিচার চাইতে গেলে তারা স্বামীসহ সাত জনের নামে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্রে কৌশলে তার স্বাক্ষর নেন ঐ প্রভাবশালীরা। মামলা থানায় নথিভুক্ত হওয়ার পর বাদী জানতে পারেন সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনকেই হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে (গৃহবধূকে) দিয়ে মামলার আসামি করেছেন। তিনি পুলিশসহ আদালতে লিখিতভাবে তা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ন্যক্কারজনকভাবে পাঁচ জনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়েরের এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে উপজেলার তাজপুর ইউপির কাদিপুর গ্রামের ধন মিয়ার বাড়িতে কয়েক শ লোকের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভা করেন এলাকাবাসী। ঐ সভায় ভুক্তভোগী লোকজন ও নির্যাতনের শিকার ঐ গৃহবধূ উপস্থিত হয়ে এলাকার চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

মামলার বাদী সেই গৃহবধূ বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস আগে উপজেলার কাদিপুর গ্রামের চুনু মিয়ার ওকালতিতে বালাগঞ্জ উপজেলার বাবরকপুর গ্রামের নজির মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ের পর স্বামী নজির আমাকে নিয়ে উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর থেকে স্বামীসহ চুনু মিয়া জোরপূর্বক আটকে রেখে ধর্ষণসহ নানাভাবে আমাকে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাদের কবল থেকে পালিয়ে গিয়ে আমার মাসহ পরিবারের সবাইকে বিষয়টি জানাই। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে বিচারের আশায় উপজেলার তাজপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কাদিপুর গ্রামের নেপুর আলী ও সজ্জাদ মিয়ার দ্বারস্থ হই। তারা মামলার লিখিত অভিযোগপত্রে কৌশলে আমার স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে মামলা করার জন্য থানায় পাঠায়। আমি লেখাপড়া না জানায় ঐ কাগজে কাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। মামলা দায়েরের পর জানতে পারি উপজেলার তাজপুর ইউপির কাদিপুর গ্রামের মিজানুর রহমান, দুধাই মিয়া, কবির মিয়া, দেলোয়ার হোসেন ও রিপন মিয়াকে মামলার আসামি করা হয়েছে। যারা আদৌ ঐ ঘটনায় জড়িত নয় এবং আমি তাদেরকে চিনিও না।’

সাবেক ইউপি সদস্য নেপুর আলী বলেন, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার রটানোসহ বিভিন্নভাবে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা হচ্ছে।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাইন উদ্দিন বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন আছে। তদন্তশেষে ঘটনার সঙ্গে কে জড়িত আছে, কে জড়িত নেই বের হয়ে আসবে।

ইত্তেফাক/ ইআ