বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঈদ উৎসবে সুস্থ থাকুন

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২২, ১৬:০৬

বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। কোভিড মহামারির কারণে গত দুই বছর দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ঠিকভাবে ঈদ পালন করতে পারেনি। এ বছর বিধিনিষেধ যেমন নেই, তেমনি লম্বা ছুটিও পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা, তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈদের আনন্দে মেতে উঠবেন সবাই। ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাবেন। অনেকেই দেশের বাইরে যাবেন বেড়াতে। ব্যাপক হারে চলাচল ঘটবে। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে সবাই যেন সুস্থ থাকেন, তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। করোনার প্রকোপ কমে এলেও সংক্রমণ কিন্তু থেমে নেই। আবার গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ডায়রিয়া, কলেরাসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। এরই মধ্যে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। উত্সবে আনন্দ যেমন করব তার সঙ্গে সাবধানও থাকতে হবে।

এই গরমে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডায়রিয়া। কয়েক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সারা দেশেই ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ঈদে খাবারদাবারে অনিয়ম আর গরমে দীর্ঘযাত্রার সময় ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়ে যেতে পারে। ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, কলেরা ইত্যাদি খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ। তাই ঈদে খাবার গ্রহণের সময় সতর্ক থাকতে হবে। প্রচণ্ড গরমে বাইরের পানি বা পানীয় বর্জন করুন। যারা ঈদযাত্রা করছেন, তারা যথেষ্ট পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে নিন। পথে-ঘাটে যতটা সম্ভব বাইরের খাবার গ্রহণ কার থেকে বিরত থাকুন। যাত্রাপথের জন্য সহজে নষ্ট হয় না, এমন শুকনা খাবার সঙ্গে নিন। বিশেষ করে শিশুদের খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।

গরমে ভ্রমণকালীন সতর্কতা প্রচণ্ড গরম আর রোদের মধ্যেই ঈদভ্রমণ করতে হচ্ছে। তাই গরমে সুস্হ থাকতে প্রচুর পানি পান করবেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের যাতে পানিশূন্যতা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। বারবার তরল গ্রহণ করবেন। হালকা সুতি কাপড় পরবেন। ঘাম বেশি হলে শিশুদের বারবার পোশাক বদলে দিতে হবে। রোদে ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করবেন। ভ্রমণের আগে-পরে হালকা খাবার খাবেন।

কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা কমে গেছে মানে মহামারি কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। ভারতে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। তাই আমাদের সর্বোচ্চমাত্রায় সতর্ক থাকতে হবে। এবার ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারত ও অন্যান্য দেশে বেড়াতে যাচ্ছেন। তাদের উচিত হবে কোভিডের বিধিনিষেধ মেনে চলা। ভ্রমণের সময় ও ভিড়ের মধ্যে মাস্ক পরুন। এটি কোভিডসহ অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকেও বাঁচাবে। বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস ছাড়বেন না। এতে বাড়তি লাভ হলো ডায়রিয়াসহ খাদ্যবাহিত রোগ থেকেও মুক্তি মিলবে। আর সরকারের উচিত হবে যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখে তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া। এতে দেশে সংক্রমণের আশঙ্কা কমবে। দেশের ভেতরও যারা চলাচল করবেন, ভিড়ের মধ্যে বা মার্কেট শপিং মলে মাস্ক পরবেন। গণচলাচলের কারণে কোভিডের সংক্রমণ আবার যেন না বাড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হাঁপানি ইত্যাদি নানা রোগে ভুগছেন, তারা ভ্রমণের আগে এবং ছুটির আগেই নিজেদের ওষুধপত্র যথেষ্ট পরিমাণে সংগ্রহ করে নিন। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে সব ওষুধ নাও পেতে পারেন; তাই নিজের ওষুধপত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে নিন। ইনসুলিন বহন করার জন্য আলাদা বাক্স বা পানি ও বরফভর্তি ফ্লাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ইনহেলার ও অন্যান্য ওষুধ একটি মুখ বন্ধ ব্যাগে নিন। সঙ্গে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ, যেমন প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন, খাওয়ার স্যালাইনের প্যাকেট ইত্যাদি। চাইলে ছোট্ট একটা ফাস্ট এইড বক্সও সঙ্গে নিতে পারেন।

তাছাড়া, ছুটির সময়ে শিশুদের চলাচলের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। শহর থেকে গ্রামে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে পানিতে পড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর খেলাধুলা করতে গিয়ে বাচ্চারা ডিহাইড্রেট হয়ে না পড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

ঈদের ছুটিতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে যাবেন। অতিরিক্ত আনন্দে সতর্কতার কথা ভুলে যাবেন না। প্রতি বছর এ সময় নানা দুর্ঘটনা ঘটে। তাই সাবধান থাকুন। বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে মজা করার সময় তাল হারিয়ে ফেলবেন না। অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ভ্রমণ করার আগে অবশ্যই নিজের চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন। কেউ গ্রামের বাড়ি বা মফস্সলে বা পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে অসুস্হ বোধ করলে কাছের কোনো স্বাস্হ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন, আগে থেকেই তা খোঁজ নিয়ে রাখুন।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাজধানীতে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি শুরু

নতুন অ্যান্টিবডি থেরাপি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে

স্বাস্থ্যসেবায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সাফল্য 

হাজারো নারীর প্রাণ বাঁচাচ্ছে ‘সায়েবাস মেথড’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কোমরব্যথার ৯০ শতাংশ রোগীই বিশ্রাম ও ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিশনে ভালো হয়

এক ওষুধেই নিশ্চিহ্ন টিউমার! 

সুস্থ ফুসফুস, সুস্থ জীবন 

বিশেষ সংবাদ

সাভারে স্বাস্থ্যসেবার নামে চরম দুর্দশা