রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মুছা গ্রেফতার না হওয়ায় থেমে গেছে আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যার তদন্ত

আপডেট : ০১ মে ২০২২, ০১:২৫

খুনের মাত্র এক মাস পরই মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত থেমে গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মুছা বিদেশে আত্মগোপন করেছেন। মুছাকে গ্রেফতার করতে পারলে টিপু হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে মতিঝিল এজিবি কলোনি থেকে বাসায় যাওয়ার পথে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে মাইক্রোবাসে গুলি করলে টিপু (৫৪) ও পাশের রিকশাযাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় ডিবির হাতে গ্রেফতার হয় শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ। ডিবি তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী আবৃত্তিকার আহকাম উল্লাহর ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এরফান উল্লাহ দামালকে গ্রেফতার করে। খুনের এক সপ্তাহ পর র্যাব এ ঘটনায় মতিঝিলের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮) এবং মোরশেদুল আলম ওরফে কাইলা পলাশকে (৫১) গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এ হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মুছা। মুছাকে গ্রেফতার করা গেলে হত্যায় কারা কারা জড়িত তার একটা তালিকা পাওয়া যেত। এ হত্যায় প্রধান মদদদাতাও শনাক্ত করা যাবে মুছার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। কারণ মতিঝিলে এই হত্যাটি সংগঠিত হয়েছে একাধিক কারণ থেকে। এখানে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও আন্ডারগ্রাউন্ড দুই স্তরের একাধিক ঘটনা জড়িত।

সূত্র জানায়, ঘটনার তিন থেকে চার মাস আগে টিপু হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ-প্রকাশের অন্যতম শুটার ও বোচা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সুমন শিকদার মুছার সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে ওমর ফারুক। মুছা এক সময় বিকাশ-প্রকাশ গ্রুপে কাজ করলেও বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হয়ে কাজ করেন। এজন্য মুছা গত ১২ মার্চ দুবাইয়ে জিসানের কাছে চলে যান। এর জন্য যে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়, তার বেশির ভাগের যোগান দেন ওমর ফারুক। এর মধ্যে প্রথমে মুছাকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডে মুছা একটি ভয়ংকর নাম। টেন্ডারবাজির কোটি কোটি টাকার কমিশন যে কোনো গ্রুপকে নিয়ে দিতে মুছা কাজ করে।

জানা গেছে, পুরোনো দুটি হত্যাকাণ্ডসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই টিপুকে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশান-১ নম্বরে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিলকীকে (৪৩) সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে। ঐ ঘটনায় মিলকীর ছোট ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় জাহিদুল ইসলাম টিপু আসামি ছিলেন। র‌্যাবের হাতে টিপু গ্রেফতার হয়ে কয়েক মাস জেলেও ছিলেন। পরবর্তীতে র‌্যাবের দেওয়া চার্জশিটে টিপুর নাম বাদ দেওয়া হয়। মিলকী হত্যার পর টিপুর সঙ্গে যুবলীগের ল্যাংড়া খালেদের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

২০১৬ সালে রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবুকে হত্যা করে। বাবুর বাবা আবুল কালাম টিপুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাবু হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে টিপু হত্যায় র্যাবের গ্রেফতার হওয়া ওমর ফারুক, আবু সালেহ শিকদার ও নাসির উদ্দিনের নাম রয়েছে। সেই মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইবু্যনালের রায়ের অপেক্ষায় আছে। সে মামলায় অভিযোগপত্রে থাকা ব্যক্তিরা মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্যা পলাশকে সুরতহাল সাক্ষী বানায় মামলার গতিপথ পালটানোর জন্য। বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডের মামলার যাবতীয় খরচসহ সবকিছু দেখভাল করছিল জাহিদুল ইসলাম টিপু। আসামিরা ৫০ লাখ টাকা দিয়ে মামলার দফা-রফার জন্য টিপুকে প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু টিপু রাজি হননি। আসামিদের আশঙ্কা ছিল, এ মামলায় তাদের কারও ফাঁসি হবে। তাই মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে প্রথমে মামলার বাদী আবুল কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে আসামিরা ভেবে দেখলেন, বাদীর পরিবর্তে টিপুকে হত্যা করলে মামলার কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে।

মূলত রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবু হত্যা মামলার রায় দীর্ঘায়িত করতেই টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে কিলার মুছা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার রিফাত বিন শামীম বলেন, টিপু হত্যাকাণ্ডে প্রধান শুটার আকাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এই হত্যার সঙ্গে জড়িত মোল্লা শামীমসহ আরো বেশ কয়েক জনকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।

হত্যায় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ কর্মকর্তা বলেন, হত্যায় ব্যবহূত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে উদ্ধার করা গুলির খোসার ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যেত যে এ হত্যায় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না। হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র আমরা উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সাভারে কলেজশিক্ষককে হত্যা: ৫ দিনের রিমান্ডে জিতুর বাবা

আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন খালেদা জিয়া

টিপু হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার, মুসার ১৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

ভাবিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, দেবর আটক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

টিপু হত্যা: ওমানে আটক মুসাকে ফেরত আনা হচ্ছে

ক্লেমন থিমেটিক ক্যাম্পেইন: ক্লিয়ারলি লেমন

সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণেও সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সম্রাটের জামিন আটকাতে হাইকোর্টে দুদক