বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সঞ্চয়পত্র বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ০৫:২৯

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ৯ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ১৬ হাজার ৫০৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ২০২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। 

ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু সঞ্চয়পত্রে সুদ হার কমানোসহ নানা নিয়ম চালু করার পর সঞ্চয়পত্র বিক্রিও কমে গেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ মার্চ মাসে ১ হাজার ৮১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎস করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। 

একই সঙ্গে ১ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরো কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারপরও বাড়তে থাকে বিক্রি। কিন্তু সম্প্রতি এর বিক্রি কমে গেছে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। তারপর থেকেই বিক্রি কমে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। 

এ কারণেও মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না। উল্লেখ্য, ব্যাংক সুদহার কমে যাওয়ার পরে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছিল। মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়। তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই খাত থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার। মূল বাজেটে এ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সেই লক্ষ্য বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। 

এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। মূলত সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের ঋণ কমে যাওয়ায় ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। 

তবে এখনো বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম ঋণ নিয়েছে সরকার। ঘাটতি মেটাতে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা আছে।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দেশে প্রথম বার ব্রোকারেজ ব্যবসায় আসছে শ্রীলঙ্কান কোম্পানি

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ পোশাক ব্যবসায়ীদের

আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্ক আরোপ

দুই শতাধিক বিলাসবহুল ও বিদেশি পণ্যে শুল্ক আরোপ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিএসইসির নির্দেশনার পর ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার

আইপিও কোটার সুবিধা নিতে লাগবে ৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমলো ৪০ পয়সা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকদের ঋণ দিতে ১০০ কোটির তহবিল