বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সব আসনে ইভিএমে ভোট কঠিন: ইসি 

আপডেট : ০৯ মে ২০২২, ০০:৪৮

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। যদিও কয়েকটি দেশ ইভিএম ব্যবহার করে পরে পিছু হটেছে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করা কঠিন বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেননা সব সংসদীয় আসনে ভোটের জন্য সাড়ে ৪ লাখ ইভিএম প্রয়োজন হলেও ইসির হাতে রয়েছে মাত্র দেড় লাখ ইভিএম। কমিশনের হাতে বিদ্যমান ইভিএম দিয়ে মাত্র ১০০ সংসদীয় আসনে ভোট করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ৩০০ আসনের জন্য সাড়ে ৪ লাখের মতো ইভিএম লাগবে। বর্তমানে সংরক্ষণে আছে দেড় লাখ ইভিএম, যা দিয়ে ১০০ আসনে ভোট করা সম্ভব।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামীতে সব নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহারের দিকে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে বর্তমান কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি আসনে এই ভোটযন্ত্রে ভোটগ্রহণ করে কিছুটা সফলতা পায় ইসি। এরপর উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবহারে যায় ইসি। মাঝে বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন, সিটি নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়। আসন্ন কুমিল্লা সিটির ভোটও ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচন ইভিএমে হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের এখনো দেড় বছর বাকি। শিডিউল ঘোষণার সময় সাধারণত সিদ্ধান্ত হয় ভোট ইভিএমে নাকি ব্যালটে হবে। কমিশন এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করা কঠিন। কারণ আমাদের হাতে যে ইভিএম আছে সেটি দিয়ে ১০০ আসনে ভোট করা সম্ভব। তবে নির্বাচনের আগে বড়জোর আরো ২০ থেকে ৩০টি আসনে ইভিএমে ভোট করা যেতে পারে। তবে ভোট ব্যালটে নাকি ইভিএমে হবে সেটির বিষয়ে কমিশনে এখনো পর্যন্ত কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার নিয়ে বরাবরই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সমমনা  দলগুলো ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিলেও বিএনপিসহ তাদের শরিকরা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প থেকে চাহিদামতো ইভিএম ক্রয় করা শেষ হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ঐ প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। ফলে নতুন করে ইভিএম ক্রয় করতে হলে নতুন প্রকল্প নিতে হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের আগেই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে ৮০ হাজার ইভিএম ক্রয় করে ইসি। ঐ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ইভিএমের বিরোধিতা করলেও পিছু হটেনি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। এজন্য নেওয়া হয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। সিদ্ধান্ত হয় ২ লাখ ২০ হাজার ইভিএম ক্রয়ের। বিগত কমিশনের পরিকল্পনা ছিল দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের। ঐ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে কেনা হয়। প্রতিটি মেশিনের পেছনে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মতো। এই দাম পাশের দেশ ভারতে ব্যবহৃত ইভিএমের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এছাড়া এত দামি মেশিন কোথায় রাখা হবে, তার জন্য প্রকল্পতে কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৭ জুন দেশে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রচলন শুরু করে বিগত ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সে সময় তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা করে প্রায় সাড়ে ১২০০ ইভিএম তৈরি করে নেয়। ঐ কমিশন এই যন্ত্রে ভোট নিয়ে সফলও হয়।

ইভিএম নিয়ে আছে বিতর্ক :জটিলতার কারণে উন্নত দেশগুলো ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানি ও ফিনল্যান্ডে আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইভিএম। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পৃথিবীর শতকরা ৯০ ভাগ দেশে ইভিএম পদ্ধতি নেই। যে কয়েকটি দেশ এটি চালু করেছিল তারাও এখন এটি নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ড ই-ভোটিং পরিত্যাগ করে। ২০০৯ সালের মার্চ মাসে জার্মানির ফেডারেল ভোট ইভিএমকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দেয়। ২০০৯ সালে ফিনল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তিনটি মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের ফলাফল অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে। নেদারল্যান্ডে ই-ভোটিং কার্যক্রমের প্রয়োগ হয়। তবে জনগণের আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ডাচ সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জালিয়াতির সুযোগ থাকায় এতে এক চাপে ৫০টি ভোট দেওয়া সম্ভব। বিদেশের মাটিতে বসেও ইভিএম হ্যাকিং করা যায় এবং একটি ইভিএম হ্যাকিং করতে এক মিনিটের বেশি লাগে না। ড. অ্যালেক্স হালডারমেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ইভিএমের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছেন, আমেরিকায় ইভিএম টেম্পারপ্র‚ফ নয়। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যেও ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। আমেরিকায় ২২টির বেশি অঙ্গরাজ্যে এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইভিএম নিয়ে ভারতেও আপত্তি :ইভিএম ব্যবহার নিয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতে রয়েছে যথেষ্ট বিতর্ক। ভারতের আদালতে ইভিএম নিয়ে একাধিক পিটিশন আছে। ভারতে বিভিন্ন এনজিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন ইভিএম নিষিদ্ধ করার জন্য। এর মধ্যে ভারতের জনতা পার্টির প্রেসিডেন্টও দুটি আসন নিয়ে ইভিএম-এর জালিয়াতির বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। ‘ভারতের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন জালিয়াতি প্রতিরোধক নয়’ দাবি করেছে একদল মার্কিন আইটি বিশেষজ্ঞ। 

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি বন্ধের উপায় কী 

বিশেষ সংবাদ

পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়ায় জমজমাট রেস্তোরাঁ

বিশেষ সংবাদ

ছয় মিনিটে পদ্মা পার, উচ্ছ্বসিত মানুষ

বিশেষ সংবাদ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন ঘিরে সুসজ্জিত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এক ফোনে ভোটের ফল পাল্টানোকে গুজব বললেন সিইসি

কুসিক নির্বাচনে ইভিএমের ফল পাল্টে দেওয়া সম্ভব নয়: ইসি

বিশেষ সংবাদ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থ বেড়েছে

বিশেষ সংবাদ

করোনা সংক্রমণে আবারও ঊর্ধ্বগতি