শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঝড়ে বিধ্বস্ত ভুটক্ষেত, তবুও খুশি কৃষক

আপডেট : ০৯ মে ২০২২, ১৩:৫৮

সমগ্র ঠাকুরগাঁও জুড়ে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি, ঝড়োবৃষ্টি এমনিক কালবৈশাখীও হানা দিয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যহত হয়েছে ফসলের। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে হেক্টর হেক্টর পরিমান ভুট্টার প্রান্তর। উৎপাদন ব্যহত হলেও বাজারে ভুট্টার দাম ভালো থাকায় ভুট্টা ঘরে তুলতে দেখা গেছে কৃষকের ব্যস্ততা। যেন সেই ঝড় বিধ্বস্ত ভূট্টাতেই রাখা আছে লোকশানের শঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়া কৃষকের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।

সোমবার (৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে ঝড়ে নুইয়ে পড়া ডাটা থেকে ভুট্টার মচা ভাঙছেন নারী ও পুরুষ কৃষক শ্রমিকরা। 

সদর উপজেলার চিলারং-এর কৃষক সইফুল ইসলাম বলেন, এবার গ্রামে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে ভূট্টার চাষ করা হয়েছিল। যেসকল কৃষকগণ ভূট্টার চাষ করেছেন তাদের মাঝে আমিও একজন চাষী। ফলনও বাম্পার হয় প্রতিবছর। এ বছরেও দ্বিগুণ ফলন হতো। কিন্তু ঝড়ের কারনে বিঘা প্রতি উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই খুব দু:শ্চিন্তা করছিলাম। তবে বাজারে ভূট্টার দাম ভালো যাচ্ছে তাই লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভূট্টা বিক্রি করতে চাই। 

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক রমিজ উদ্দীন বলেন, আবাদের অর্ধেক ভূট্টার ফসল ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে আমার। তবে দাম থাকায় খরচ উঠে আসবে আশা করছি। প্রতি বছর ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করি। প্রতি বিঘাতে উৎপাদন পেতাম ৭০ থেকে ৮০ মন। কিন্তু এবারে ৪০ এর বেশি পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার।

বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক মিঠু রহমান বলেন, গত বছর লাভবান হয়ে এবার ৪ বিঘা থেকে ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। বার বার ঝড়ের কবলে না পড়লে এবার ভুট্টা চাষীরা অনেক বেশি লাভবান হতাম। উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় বাজার দামে ক্ষতি কিছু কমিয়ে আনলেও লাভবান হতে পারবোনা। এবার মাঠেই কাচা ভুট্টা বিক্রি করছি ৮২ কেজির বস্তা ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা। গতবারে বিক্রি করেছিলাম সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা। দামে আমি খুশী।

তবে আগাম ভুট্টা ছাড়াও যারা একটু দেরিতে ভুট্টার চাষ করেছে তারা একটু বেশি হতাশ। এ বিষয়ে আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক হাসেম আলী বলেন, মাঝখানে শিলা দফায় দফায় শিলাবৃষ্টির কারনে মচা হওয়ার আগেই ভুট্টার চারা ডাটা ভেঙ্গে গেছে। অনেকের আবার নুইয়ে পড়েছে। ফলন ভালো হয়নি। সে ক্ষেত্রে আমার মতো চাষীরা লোকসানে পড়বেন। উৎপাদন খরচ উঠে আসাও কষ্ট হয়ে যাবে।

জেলার ভুট্টা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বলেন, এবারে ভুট্টার উৎপাদন ভালো হয়নি। অনেক টাকা বিনিয়োগ করে ভুট্টা কিনতে হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ভুট্টা কিনতে গেলে দেখা যাচ্ছে ভালো মানের দানাদার ভুট্টা মিলছেনা। ঝড়ের কারনে যেসব ভুট্টা হেলে গেছে বা পড়ে গেছে সেসব ভুট্টার দানা খুব  একটা ভালো পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে দাম ভালো পাওয়ায় ওভাবেই ভুট্টা দ্রুত সংগ্রহ করছে কৃষক।

ঠাকুরগাঁ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ ট্রাক ভুট্টা জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে বলে জানান ভুট্টা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে এবারে জেলা জুড়ে রবি ভুট্টার চাষ হয়েছে- ৩৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে এবং গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা ১৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৭ টন ভুট্টা। এখন পর্যন্ত রবি ভুট্টার কর্তন হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৮ হেক্টর জমির। যা থেকে উৎপাদন এসেছে ৮১ হাজার ৮৩৪ মে. টন। গ্রীষ্মকালীন আবাদী ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৯ টন। তবে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন এ ভুট্টা। 

কৃষি বিভাগ বলছে, ঝড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি। যার মধ্যে চুড়ান্ত ক্ষতির হিসাব দেখানো হয়েছে ৬৪২ হেক্টর জমির।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, এবারে কয়েক দফায় ঝড় ও শিলাবৃস্টির কারনে ভুট্টা সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার কারনে উৎপাদন কিছুটা ব্যহত হতে পারে। তবে এখনও যে পরিমাণ শস্য মাঠে আছে তা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য হতে পারে। 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সড়কের দু'পাশই দখল, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

টাকা দিতে না পারলে দেওয়া হয় না সেচসুবিধা!

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

বিশেষ সংবাদ

দিনে ৬০ লাখ টাকার মরিচ কেনাবেচা হয় যে গ্রামে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নীলগাই জবাই করলেন গ্রামবাসী

প্রচণ্ড গরমে অস্থির ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন

ঠাকুরগাঁওয়ে কালবৈশাখীতে ভুট্টার ক্ষতি

রাণীশংকৈলে ২৬ তম বৈশাখী মেলা