সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কৃষ্ণচূড়া-জারুলে সেজেছে প্রকৃতি

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ০৯:১৮

কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে / আমি ভুবন ভোলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে’। ইট-পাথর আর কোলাহলের নগরীতে যেন সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতেই ফোটে কৃষ্ণচূড়া। তার রঙ যেন সতেজ করে দেয় পথিকের মন। নগরীর রুক্ষ প্রকৃতিতে যেন এখন জীবনের স্পন্দন। রাজধানীতে গাছে গাছে কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখে মনে হয়, গ্রীষ্মের খরতাপের সঙ্গে ডালে ডালে যেন আগুন লেগেছে। গ্রীষ্মকালে সড়কের দুই পাশে নিজেকে মেলে ধরে এই ফুল। ঢাকার বিভিন্ন পার্ক ও সড়কের দুই পাশে এখন কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, সোনালু, জারুল ফুটেছে। প্রকৃতি মেলে ধরেছে তার আপন রঙ। ঢাকায় কৃষ্ণচূড়ার সবচেয়ে বেশি গাছ দেখা যায় সংসদ ভবন এলাকায়। এর মধ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সড়কের দৃষ্টিনন্দন ফুল নজর কাড়ছে সবার। এছাড়া কৃষ্ণচূড়াসহ অন্যান্য ফুল দেখা যায় এয়ারপোর্ট রোড, সাতমসজিদ রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল, রমনা উদ্যান, মিন্টো রোড এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও। ভোরের নরম আলো, তপ্ত দুপুর কিংবা সন্ধ্যা নামার আগেও কৃষ্ণচূড়াসহ এসব দৃষ্টিনন্দন ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন নগরবাসী।

জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন আগারগাঁওয়ের দিকে সড়কটিতে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া ফুল। এছাড়া সংসদ ভবনের আশপাশের সড়কে ফুটতে দেখা গেছে কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, জারুল, সোনালু। এই এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ দল বেঁধে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছেন। মোটরসাইকেল বা গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেল কয়েক তরুণকে। উঠতি বয়সি কিশোর-কিশোরীরা ভিড় করছেন ফুলের সঙ্গে নিজের একটি মুহূর্তকে বন্দি করতে। সংসদ ভবনের এলাকায় ঘুরতে এসেছেন সামিয়া ইসলাম। তিনি জানান, কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখব আর নিরিবিলি এখানে বসে থাকবো বলে এই সড়কে এসেছি। কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখে মনটা হালকা হয়ে গেছে। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সামিউল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। ইটপাথরের শহরে এমন দৃশ্য মন ভালো করে দেয়। তাই এখানে ঘুরতে এসেছি। ফুলের সঙ্গে ছবিও তুলেছি। কয়েক দিন পরই এই জায়গা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে, তখন প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করা কঠিন হবে। তাই আগেই এসেছি।

কৃষ্ণচূড়ার আরেক নাম ‘গুলমোহর’। আর কৃষ্ণচূড়ার মতো দেখতে হলুদ ফুল হলো রাঁধাচূড়া। রাজধানীতে এখন এই দুটি ফুলই বেশি দেখা যায়। আর সোনালু ও জারুল কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দেখা যায়। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে প্রকৃতি তার আপন রঙ হারিয়ে ফেলছে। গাছ কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে এখন এসব প্রাকৃতিক দৃশ্য দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পিতভাবে রাজধানীতে আরো গাছ লাগালে সব ঋতুতেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে রাজধানী, বলছেন দর্শনার্থীরা। সংসদ ভবন এলাকায় ঘুরতে আসা সাবিহা আক্তার জানান, প্রকৃতির মাধুর্যতা, স্নিগ্ধতা ছড়াতে আমাদের উদ্যোগী হয়ে এসব গাছ লাগাতে হবে চারদিকে। তাহলে আমরা মনোরম দৃশ্য প্রতিবছরই দেখতে পাব। প্রকৃতি মেলে ধরবে তার সৌন্দর্য। 

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

লাউ, কুমড়া, মাছ ও মরিচে ঢুকিয়ে মাদক পাচার!

বিশেষ সংবাদ

থানার জব্দ গাড়িতে দখল গোলারটেক খেলার মাঠ

বিশেষ সংবাদ

ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি: ব্যাংক কর্মকর্তারাই তথ্য দিচ্ছে প্রতারক চক্রকে

বিশেষ সংবাদ

জলাবদ্ধতা ঠেকাতে রাজধানীর ১৭৮ স্থানে সংস্কার শুরু

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

সন্তানদের পেতে আইনি লড়াই এবার পারিবারিক আদালতে

বিশেষ সংবাদ

বাসাবাড়ির জমা পানিতে বাড়ছে কিউলেক্স মশা

শেষ পর্যায়ে ফুটপাতে বেচাকেনার ধুম

বিশেষ সংবাদ

সংকুচিত হচ্ছে খেলার মাঠ, ব্যাহত মানসিক বিকাশ