শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

'আসানি'র প্রভাব নেই কক্সবাজার সৈকতে

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১৮:৩৭

ঘূর্ণিঝড় 'আসানি'র প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত। সোমবার (৯ মে) দুপুর থেকে কালো মেঘে ছেয়ে আছে কক্সবাজারের পুরো আকাশ। থেমে থেমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও হচ্ছে। তবে, এর কোনো প্রভাব পড়েনি কক্সবাজার সৈকতে। 

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছেন হাজারো পর্যটক। সবমিলিয়ে কক্সবাজারে অর্ধলাখ পর্যটক অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।

সোমবার (৯ মে) বিকেলে কক্সবাজার সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। তা উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে উল্লাসে মেতেছে নানা বয়সী পর্যটক। এদের অনেকে সোমবার ভোর ও সকালে কক্সবাজার পৌঁছান বলে জানিয়েছে হোটেল সংশ্লিষ্টরা।

সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে কথা হয় ঢাকার গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, পুরো পরিবার নিয়ে সোমবার সকালে কক্সবাজারে এসেছি। ঘূর্ণিঝড়ের কথা গতকাল থেকেই শুনছি। তবে, বাংলাদেশে এর প্রভাব তেমন পড়বে না বলে জানার পর কক্সবাজার বেড়াতে চলে এসেছি। আবহাওয়া ভালোই ছিল, কিন্তু দুপুরের পর হালকা বাতাস ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। 

কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক জসিম উদ্দিন দম্পতি বলেন, তীব্র গরমে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এক পশলা বৃষ্টি সৈকতে অন্যরকম ভালো লাগার আবহ এনে দিয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শনিবার থেকে পর্যটক আসা কিছুটা কমে গেছে। এরপরও সোমবার হাজার বিশেক পর্যটক কক্সবাজারে এসেছে। আগের আসা পর্যটকও অবস্থান করছি হাজার বিশেক। সবমিলিয়ে অর্ধলাখ ভ্রমণ পিয়াসী কক্সবাজার অবস্থান করছেন এখন।  

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ঈদের আবহ কেটে গেলেও কক্সবাজার পর্যটকে ভরপুর বলা চলে। সোমবারও বৃষ্টি উপেক্ষা করে অর্ধলাখের মতো পর্যটক সৈকতে নেমেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত থাকায় পর্যটকদের হাটু পানির বেশি  নামতে দেওয়া হচ্ছে না। বারবার মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত চলছে।

কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমেদ বলেন, সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। কেউ কেউ সমুদ্রতীরের বিভিন্ন ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। যারা এখনো ফিরেনি, তাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে খবর পৌঁছানো হয়েছে।  

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আসানির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারে বিপুল পরিমাণ পর্যটক অবস্থান কারায় সোমবার সকাল থেকে  সৈকতেও মাইকিং করে পানিতে না নামতে বার বার সতর্ক করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

জুনের মাঝামাঝি বাজারে আসছে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম

সিলেটে একদিনে ২০ হাজার বন্যার্তদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ

আগুনে পুড়লো রিকশা চালকের স্বপ্ন

পিরোজপুরে প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আটক ৬

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রেল স্টেশনে তরুণী লাঞ্ছিত, ৩ দিনেও কেউ ধরা পড়েনি

কক্সবাজারে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন পর্যটকের মৃত্যু

বিশ্ব ব্যক্তিত্বের মিলনমেলা ‘সেলিব্রেটি গ্যালারি’

উখিয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ যুবক গ্রেফতার