আসানি: চলনবিলে ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা 

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১৮:৪৯

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র সংকেতে পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের চাষিরা প্রায় ৬৫ শতাংশ জমির পাকা, আধা পাকা, কাঁচা বোরো ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, আর এক সপ্তাহ সময় পেলেই চাষিরা তাদের লালিত স্বপ্নের ফসল বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। ইতোমধ্যে ৩৫ শতাংশ জমির আগাম জাতের ধান কেটে ঘরে তুলেছেন তারা। বাকি ৬৫ শতাংশ জমির ধান কাটার প্রস্তুতিও নিয়েছ্নে। ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায় কৃষকরা ধান কাটা শ্রমিকদের আগাম মজুরিও দিয়ে রেখেছেন। চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, গুরুদাসপুর, সিংড়া, তাড়াশ উপজেলায় এই চিত্র দেখা যায়।

চলনবিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা আগাম জাতের পাকা ধান কাটছেন। এখনও জমিতে ৬৫ শতাংশ পাকা ধান কাটার অপেক্ষায়। কোথাও কোথাও ধান পাকতে আরও ২-১ সপ্তাহ সময় লাগবে।

চলনবিলে দুই থেকে তিনবার ধান উৎপাদন হলেও রবি মৌসুমে বোরো ধানের চাষ এবং ফলন বেশি হয়। যদিও বোরো ধান উৎপাদনে খরচ বেশি হয়। সেচ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই আগাম জাতের বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন চলনবিলের চাষিরা। এ বছরে টানা খরা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেকটা শঙ্কা নিয়েই দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন চাষিরা। জমিতে পাকা ধান ঝড়-শিলাবৃষ্টির কবলে পড়লে ধান কেটে ঘরে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। তাই বোরো ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই অনেকেই আধা পাকা ধান কাটছেন।

চলনবিলের কিছু এলাকায় ঈদের আগে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আধাপাকা, নরম দানা ও থোর ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এতে ফলন কম হলেও বেশিরভাগ অঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। ফলনে কৃষকরা খুশি থাকলেও বৈরি আবহাওয়া এবং দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। সরকারিভাবে প্রতিমণ (৪০ কেজি) ধানের ক্রয়মূল্য ১০৮০ টাকা ধার্য করলেও স্থানীয় বাজারে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মণ বিক্রি করছেন কৃষকরা।

উপজেলার হান্ডিয়ালের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। তার মধ্যে ৩/৪ বিঘা জমির ধান কেটেছি। বাকি ব্রি-২৯ জাতের ধান ১/২ সপ্তাহের মধ্যেই কাটা হবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমরা সময়মতো ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। তা ছাড়া, সময়মতো কৃষি শ্রমিক পাওয়া মুশকিল।’ 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানে চাষ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। 

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুমবিল্লাহ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে। শ্রমিক সংকট থাকলেও উপজেলায় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিনে দ্রুততার সঙ্গে কৃষকদের ধান কেটে প্যাকিং করে নিচ্ছেন।’ 

ইত্তেফাক/এএইচ