বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মাছের বরফে শরবত, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১৯:৩০

গত ক’দিন ধরে চলছে প্রচণ্ড তাপদাহ। গ্রীষ্মের দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। ফলে শরীর জুড়াতে ঠাণ্ডা পানীয়র প্রতি ঝুঁকছে মানুষ। চাহিদা বাড়ায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর অলিগলিতে বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত রঙিন পানীয় ও বরফ মেশানো লেবু শরবত বিক্রির ধুম পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব শরবত-জুস পানে তৃষ্ণা মিটলেও স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি বাড়ছে। এতে টাইফয়েড, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো রোগের জীবাণু রয়েছে। 

গ্রীষ্ম এলেই নগরীর ফুটপাতে জুস কিংবা ঠাণ্ডা পানীয় বিক্রির ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের সংখ্যা বেড়ে যায়। লেবু, ট্যাং, আখের রসসহ নানা ফলের শরবত বিক্রি করেন তারা। প্রচণ্ড গরমে এসব পানীয় বিক্রিও হয় বেশ ভালো পরিমাণে। এ সুযোগে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে এসব পানি তৈরি করে প্রতিদিন  হাজার হাজার টাকার ব্যবসা করছেন মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এদিকে তৃষ্ণায় পিপাসা মেটাতে পথচারী ও নিম্নবিত্তরা নিশ্চিন্তে এসব পানীয় পান করছে। শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা। 

হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) সূত্রমতে, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছে। এছাড়া, হাসপাতালে পেটের পীড়া, ঠাণ্ডা-জ্বর নিয়ে আগত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রধান ফটকের সামনে ৬-৭ টি দোকানে বিক্রি হচ্ছে ঠাণ্ডা পানীয়। ড্রাম ভর্তি রঙিন পানিতে (সিভিটা, ইসপি, প্যালিটা সফট ড্রিংক পাউডার মেশানো পানি) লেবু, বিট লবণ ও মাছ সংরক্ষণের বরফ মিশিয়ে তৈরি প্রতি গ্লাস রঙিন শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। এছাড়া, আখের শরবত প্রতি গ্লাস ২০ টাকা, মালাই শরবত ১০ টাকা, লেবু-বরফ মেশানো শরবত ৫ টাকা করে বিক্রি করছেন। 

তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসব দোকানিদের চাহিদা বেশি। এছাড়াও শহরের জনবহুল এলাকাসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে মৌসুমি পানীয় ব্যবসায়ীরা শরবত বিক্রি করেন। তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে কিংবা খেলা শেষে শরবতের নামে পান করছে অস্বাস্থ্যকর এসব পানীয়। ছোট একটি বালতিতে রাখা পানিতে বারবার গ্লাস ধোয়ায় নোংরা হয়ে যাওয়া সেই পানিতে আবারও গ্লাস ধুয়ে বাচ্চাদের শরবত দেওয়া করা হচ্ছে। 

নগরীর শহীদ মিনারের সামনে লেবুর শরবত বিক্রি করেন শফিক। তিনি বলেন, ‘গরম বাড়লে লেবু পানি ভালো বিক্রি হয়। মাছ ঘাট থেকে আমাদের বরফ দিয়ে যায়। প্রতিটা বরফ ৫০ টাকা দিয়ে কিনি। এই বরফ, বিট লবণ আর লেবু দিয়ে শরবত বানাই।’ পানি সংগ্রহের স্থান হিসেবে পার্শ্ববর্তী একটি কল থেকে সিটি করপোরেশনের সাপ্লাইয়ের পানি সংগ্রহ করেন তিনি।

শফিক আরও বলেন, ‘রোজার শুরু থেকে শরবত ভালোই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন তিন থেকে চার ফিল্টার পানির শরবত বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন অনেক মানুষ শরবত খায়। বিক্রি করেন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।’

তার কথায় সম্মতি জানিয়ে পাশের মালাই শরবত বিক্রেতা বলেন, আমাদের এমনই বেচা হয় কিন্তু খরচাও আছে। জিনিসের খরচ ছাড়াও প্রতিদিন লাইনম্যানরে (চাঁদাবাজ) ৭০ টাকা দিতে হয়। 

জানা যায়, প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ শফিকের দোকান থেকে শরবত খান। কিন্তু তার দোকানে গ্লাস মাত্র তিনটি। একজনের খাওয়া শেষ হলে ময়লা পানিতে ধোয়ার পর আবারও সেই গ্লাসে পরিবেশন করা হচ্ছে শরবত। একই চিত্র দেখা যায় প্রত্যেকটি দোকানে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস কে ফরহাদ বলেন, ‘গরমের সময়ে প্রয়োজনীয় পানি খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য জরুরি। কিন্তু  রাস্তার ধারে ভ্যানে খোলা অবস্থায় যেসব পানীয় বিক্রি হচ্ছে, তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কারণ যে পানি রাস্তার পাশে বিক্রি হয়, সেখানে দেখা যাচ্ছে পানির পাত্রটি ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। গ্লাসগুলো ঠিকমতো ধোয়া হচ্ছে না। ফলে জীবাণু থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, একই গ্লাস বারবার ব্যবহারের ফলে একজনের জীবাণু আরেকজনের মধ্যেও যাচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে সহজেই সংক্রমিত হচ্ছে। রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর পানীয় করায় পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।  এছাড়াও দূষিত পানির কারণে অন্যান্য রোগ বাড়ছে। বিশুদ্ধ ও ফুটিয়ে পানি পান করতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অপরিণত নবজাতকের চোখের সমস্যা, অবহেলায় বড় বিপদ

নিয়মিত মেডিটেশন চর্চায় দূর হয় রাগ ক্ষোভ হতাশা দুশ্চিন্তা 

দেশে অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ

বিশেষ সংবাদ

দালালের খপ্পরে নাজেহাল রোগী

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

দেশে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে প্রতি বছর জন্ম নেয় ১০ হাজার শিশু

বিশেষ সংবাদ

উপেক্ষিত প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতাল 

ঈদ উৎসবে সুস্থ থাকুন

হাই তোলে কেন