বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩, ৯ চৈত্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ ও খালে

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ০২:৩১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদ ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন খালে শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ ও খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা।

এ বিষাক্ত পানির তেজস্ক্রিয়তায় চর্ম রোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এছাড়া কৃষক সেচ মৌসুমে নদ ও এসব খালের পানি সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না। দূষিত পানির দুর্গন্ধে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা এ শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রতিবাদে একাধিকবার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করলেও কোন কাজে আসছে না। প্রতিকারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের তালতলা এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য স্থানীয় মালিপাড়া ও বশিরগাঁও খাল দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে চলে যাচ্ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন ডাংইয়ের রাসায়নিক পানি ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কালো করে ফেলেছে। এতে নদের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষাক্ত পানি নদে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

গত শনিবার বিকালে তালতলা এলাকায় জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে বর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি ফেলে নদের পানি দূষিত করার প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে ব্রহ্মপুত্র নদ ও বশিরগাঁও খালে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যের কারণে খালে স্তর পড়ে আছে। এছাড়া নদের সাদা পানি কালো হয়ে পড়েছে। এ সময় এলাকাবাসী বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তালতলা এলাকার জহিরুল ইসলাম বলেন, তালতলা এলাকার পেপার মিল, ব্যাটারি ফ্যাক্টরি ও বাগবাড়িয়ার তারকাটার মিলসহ বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরির বিষাক্ত বর্জ্য নদী ও খালে ফেলা হচ্ছে। জামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ কবির সুমন বলেন, নদ ও খালের বিষাক্ত পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার দূরের কথা মাছ, সাপসহ কোন জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারছে না।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহী বলেন, বিষয়টির তদন্ত করে দূষণের সঙ্গে জড়িত শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ ইউবি