শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শ্রমিকসংকটে ধান কাটা ব্যাহত, শঙ্কায় কৃষক

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ০২:২০

বিভিন্ন স্থানে মাঠে বোরো ধান পেকে গেছে। এই মুহূর্তে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। কিন্তু শ্রমিকসংকটে বোরো ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা জানান

— বগুড়া : মাঠের অনেক ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। এক সঙ্গে মাঠের ধান কাটার জন্য বগুড়ায় ধান কাটার শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে। ধান কাটতে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ শ্রমিক অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাই তারা এবার ধান কাটতে আসেননি। উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের শফির উদ্দীন, রায়হান হোসেন ও নাহিদ জানান, মজুরি হিসেবে এক মণ ধানের দাম দিয়েও মিলছে না একজন শ্রমিক। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, ধান নুয়ে পড়ার কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শ্রমিকের ওপর চাপ বেশি সৃষ্টি হয়েছে। এটা শুধু এ উপজেলাতেই না পুরো দেশের চিত্র। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) এনামুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে জমিতে ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সবার ধান এক সঙ্গে পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে।’

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : শ্রমিকসংকটে পাকা ধান কাটতে না পারা ও রোদের অভাবে কাটা ধান শুকাতে না পেরে উত্কণ্ঠায় দিন যাপন করছেন কৃষকেরা। অনেকে দৈনিক হাজিরার শ্রমিক নিয়েও পাকা ধান কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিক স্বল্পতার মধ্যে কিছু পাকা ধান কাটা হলেও বৃষ্টির কারণে ধানের খড়-কুটা পচে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেবে বলেও জানান চাষিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায় জানান, শ্রমিকসংকটের কারণে অনেক জায়গায় ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।

রাণীনগর (নওগাঁ) : কৃষকরা তীব্র শ্রমিকসংকটের কারণে মাঠ থেকে ঘরে ধান তুলতে পারছেন না। অনেক খেতে পানি জমে যাওয়ার কারণে জমিতেই ধানে নতুন গাছ জন্ম নিচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক। সিংগাড়পাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাক আহমেদ জানান, শ্রমিকসংকটের কারণে তিনি এখন পর্যন্ত এক শতাংশ জমির ধানও কেটে ঘরে তুলতে পারেননি। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শ্রমিকের খোঁজ নিচ্ছেন কিন্তু প্রতি বছরের ন্যায় এবার নওগাঁর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান কাটার শ্রমিক না আসায় জেলার ১১টা উপজেলায় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ বলেন, শ্রমিকসংকটের কারণে কৃষকেরা ধান কাটতে পারছেন না এমন কথা শোনা যাচ্ছে। বাইরের জেলার শ্রমিক কম আসায় শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) : নাঙ্গলকোটে কৃষি শ্রমিকসংকটে ধান কাটা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। অধিকাংশ মাঠের ধান এখনো জমিতে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা অধিক মজুরি দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক সংগ্রহ করছেন। বাংগড্ডা ইউপির, কাদবা, রামেরবাগ, বাঙ্গড্ডা, রায়কোট উত্তর ইউপির রায়কোট, মাহিনী, দৌলতপুর, মৌকরা ইউপি গোমকোট, মাঝিপাড়া, মৌকরা, পেরিয়া ইউপির মাধবপুর, পেরিয়া, আশারকোটা, শ্রীফলিয়া সহ উপজেলা প্রায় গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে গিয়ে দেখা যায় ধান কাটার কাজে তেমন শ্রমিক নেই। প্রান্তিক চাষি ও বর্গা চাষিরা নিজের ধান কাটায় ব্যস্ত।

ইত্তেফাক/ ইআ