সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

দালালের খপ্পরে নাজেহাল রোগী

আপডেট : ১৩ মে ২০২২, ০৪:২২

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১০২ নম্বর কক্ষে চিকিত্সাসেবা দেন ডা. রাশিদা সুলতানা। এই কক্ষের বাইরে রোগীর লম্বা সিরিয়াল। সিরিয়ালের বেশির ভাগ রোগীর হাতে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগ পরীক্ষার রিপোর্ট। রোগীরদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন চার তরুণ। তারা রোগীদের ডাক্তারের দেওয়া নির্দেশনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে না করিয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষানিরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নিজেদের পরিচয়ে তারা রোগীদের জানান, তারা এই ডাক্তারের সহকারী। 

সরেজমিনে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) এই চিত্র দেখা যায়। তবে এই চিত্র কেবল ১০২ নং কক্ষেই নয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের প্রায় সব কক্ষের চিত্র একই। হাসপাতালে ডাক্তারের সহকারীদের কাছে নেই তাদের পরিচয় পত্র। ডাক্তারের সহকারীদের নামে হাসপাতালে চলছে দালালদের অভিনব দৌরাত্ম্য।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনরা দালালদের হাতে নানাভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। কারণ হাসপাতালের নিরাপত্তা ও দালাল নিরসনের কর্মীর সঙ্গেই দেখা মেলে দালালদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। হাসপাতালের দালাল নিরসন ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন হাসপাতালের কর্মচারী মো. সাউদ। তার সঙ্গেই রয়েছে দালালদের সখ্য।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. এস কে ফরহাদের সঙ্গে হাসপাতালে দালালদের প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রাঙ্গণে যেন দালাল না আসে এ জন্য সাউদ নামের একজন কর্মী নিয়োগ রয়েছেন। ডাক্তারের কক্ষের বাইরে অতিরিক্ত ডাক্তারের সহকারী থাকার কথা না। যদি থেকে থাকে তাহলে কেন আছে এ বিষয়ে সাউদকে প্রশ্ন করতে পারেন। আমরা হাসপাতালে দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছি। 

দালালরা কীভাবে রোগীদের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ পরীক্ষা করতে পাঠাচ্ছেন। এই প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এদিকে হাসপাতালটির চিকিত্সাসেবা দালালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে নিজেদের হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভর্তি, শঘ্যা পেতে এবং রোগ পরীক্ষাসহ নানা কাজে সহযোগিতার কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা। অনেক সময় বকশিশ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানিও করে দালাল চক্র।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারির ডাক্তার সাইদ আল মাহমুদের কাছে চিকিত্সাসেবা নিয়েছেন সুভাষ চন্দ্র। দালালদের খপ্পরে পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি। তার হাতের রোগ পরীক্ষার রিপোর্ট দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তারের সঙ্গের ছেলেটা আমাদের বলছে, হাসপাতালে টেস্ট হবে না। এইখান (ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার) থেকে টেস্ট করাইতে বলছে। টেস্টগুলো করাতে ১ হাজার ৮০০ টাকা লাগছে। গরিব মানুষ বইলাই তো সরকারি হাসপাতালে আসছি। সরকারি হাসপাতালে টেস্টগুলো করাইতে পারলে কত উপকার হইত।’ 

তার পাশে থাকা অন্য একজন রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার ছেলেকেও ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তারের অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিচয় দিয়ে এক ছেলে এই খানেই (ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার) করাতে বলছে। হাসপাতালের টেস্ট নাকি ভালো না। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার সঙ্গে গিয়ে টেস্ট শেষে বলে তারে ২০০ টাকা দিতে। টেস্টের খরচ ১ হাজার আর তারে দিছি ২০০ টাকা।’ হাসপাতালে দালালরা প্রকাশ্যে তাদের অপতত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা নিতে দেখা যায় না।

গত ২৪ এপ্রিল এই হাসপাতালের দালাল চক্রের ১৯ সদস্যের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। কিন্তু নিয়মিত নজরদারির অভাবে হাসপাতালের অবস্হা যেই সেই। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান এই বিষয়ে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জেনারেল হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার। হাসপাতালে নিয়মের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।’

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নিয়মিত মেডিটেশন চর্চায় দূর হয় রাগ ক্ষোভ হতাশা দুশ্চিন্তা 

দেশে অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ

বিশেষ সংবাদ

মাছের বরফে শরবত, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

বিশেষ সংবাদ

দেশে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে প্রতি বছর জন্ম নেয় ১০ হাজার শিশু

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

উপেক্ষিত প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতাল 

ঈদ উৎসবে সুস্থ থাকুন

হাই তোলে কেন 

নারায়ণগঞ্জ

পাইপে ছিদ্র, পানিতে কলেরার জীবাণু