ব্লাস্ট ফারনেস থেকে সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র– বহিরাগতদের অবদান ছাড়া লুক্সেমবুর্গের এশ-সুয়র-আলজেৎ শহরটি ইউরোপিয়ান কালচারাল ক্যাপিটল হতে পারতো না। আসলে বহিরাগতদের ছাড়া লুক্সেমবুর্গের দক্ষিণে ইস্পাত শিল্প অঞ্চল ভাবাই যায় না। সেখানকার সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মূলমন্ত্র হলো ‘রিমিক্স কালচার’।
ফাবিও বোটানি ও মারিয়া গ্রাৎসিয়া গালাটি নিজেদের ইটালীয় শিকড় নিয়ে চর্চা করছেন। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের মতো ইটালির অনেক মানুষ লুক্সেমবুর্গে চলে এসেছিলেন।
ফাবিও বলেন, ‘আমি বহিরাগত হওয়া সত্ত্বেও তোমরা আমাকে স্বাগত জানিয়েছিলে। খুব সুন্দর এই বাক্যটি আমার নিজের মনে হয়। আমিও অতীতের অভিবাসীদের মতো পরিস্থিতিতে রয়েছি, শুধু ১০০ বছর পরে এসেছি। এখন পরিস্থিতি পুরোপরি এক না হলেও আমি সেটা উপলব্ধি করতে পারি। লুক্সেমবুর্গে আসার পর আমাদের ক্ষুধা সহ্য করতে হয় নি। তবে আমরাও আরও ভালো জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখতাম।’
ইটালির মানুষ এখনো পর্যন্ত লুক্সেমবুর্গের অন্যতম বড় অভিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে। ফাবিও বোটানি তাঁর চলচ্চিত্রে তাদেরই কাহিনি শোনাচ্ছেন। ‘এশ ২০২২’র আওতায় সেই চলচ্চিত্র পরিবেশন করা হচ্ছে। সেটি পুরোপুরি ইটালির পারিবারিক প্রোডাকশন।
চলচ্চিত্রের প্রযোজক মা এবং ছেলে পরিচালক। ড্যুডেলিঙেন এলাকার ইটালীয় পাড়ায় তাঁরা খোঁজ চালিয়েছেন। ‘ছোট ইটালি' বলে পরিচিত সেই পাড়ায় আগে পুরোপুরি ইটালীয় খনি শ্রমিকদের আধিপত্য ছিল। আজ ১২০টিরও বেশি দেশের মানুষ সেখানে বাস করেন। প্রত্যেকেরই নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
মারিয়া গ্রাৎসিয়া গালাটি মনে করেন, ‘ইটালি সূর্যের আলোর জন্য বিখ্যাত। অভিবাসীরা আসার পর কোথাও সূর্যের আলো পেলেন না। তখন তাদের রংয়ের প্রয়োজন পড়লো। তাই তারা নিজেদের ঘরবাড়ি রং করলেন।
আগে যেখানে লোহার আকর রাখা হতো, সেই গুদাম আজ মিডিয়া শিল্পের প্রদর্শনীর জায়গায় রূপান্তরিত হচ্ছে। ‘এশ ২০২২' প্রকল্পের ম্যানেজার ফ্রান্সের ভ্যাঁসঁ ক্রাপোঁ একাধিক প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করেন। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থেকে নতুন কিছু উঠে এলেও পুরানো চরিত্রও যে দৃশ্যমান থাকছে, সেটা তুলে ধরাই তাঁর চ্যালেঞ্জ।
ভ্যাঁসঁ বলেন, ‘এটা মিউজিয়াম নয়, গ্যালারিও নয়। আমাদের সাদা দেওয়াল নেই, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চমকপ্রদ ব্যবস্থা নেই। ঠিকমতো ইনসুলেশনেরও কাঠামো নেই। কিন্তু এই স্পেসের সঙ্গে আশেপাশের এলাকা যেভাবে মিশে রয়েছে, সেটা আমাদের ভালো লাগে। মানুষ যাতে এই স্পেসের অতীত বুঝতে পারেন, সেটাও আমরা চাই। তাই দুইয়ের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটাতে হয়েছে।’
শিল্প স্থাপনার ধ্বংসাবশেষকে শিল্পের পর্দা হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ লুক্সেমবুর্গের দক্ষিণে এই প্রথম নয়। গ্রাফিটি শিল্পী আল্যাঁ ভেল্টার এক ইস্পাত কারখানার কুলিং টাওয়ারের উপর মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তুলছেন। সেই সব মোটিফ এমনকি পাবলিক বাসের গায়ে বিজ্ঞাপন হিসেবেও শোভা পাচ্ছে।
লুক্সেমবুর্গের শিল্পী আল্যাঁ ভেল্টার বলেন, ‘দক্ষিণের মানুষ স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। ‘পেটের কথা মুখে আনা' সেখানে প্রচলিত এক প্রবাদ। অর্থাৎ মানুষ রাখঢাক না করে যা মনে আসে তাই বলে দেয়। সেটা আমার খুব ভালো লাগে।’
সেই অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ অভিবাসী বাস করেন। এটাই তাদের নিজস্ব দেশ হয়ে উঠেছে। চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে ফাবিও বোটানি বলেন, ‘এই জায়গা আমার মধ্যে বিশেষ এক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। অতীতের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে আমাদের শিকড় ও সূচনা স্পষ্ট হয়ে যায়।’
‘এশ ২০২২' উৎসবের মাধ্যমে সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এক অঞ্চল ইউরোপীয় বৈচিত্র্য উদযাপন করছে। সূত্র: ডয়েস ভেলে।

ঢাকায় আসছেন শিল্পা শেঠি, মাতাবেন মঞ্চ