শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়!

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ১২:১৭

ডুমুরিয়া উপজেলার ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন জন শিক্ষক থাকলেও ছাত্র মাত্র এক জন রয়েছে। এছাড়া উপজেলার আরো ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনেরও নিচে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১০টির সঙ্গে নতুন করে জাতীয়করণকৃত ১০৪টি বিদ্যালয়ে ২২ হাজার ৬১৭ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তবে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পুরাতন আটটি ও নতুন জাতীয়করণকৃত ১৩টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০ জনের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে নতুন জাতীয়করণকৃত ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র অর্পণ (৭) সরকারই ছাত্র। 

বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা বাবু শিবপদ মণ্ডলের (৮২) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ময়নাপুর ১ নম্বর ধামালিয়া ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম প্রান্তের অবহেলিত একটি গ্রাম। গ্রামটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় ৩৫/৪০টি পরিবারের বসবাস। ১৯৯১ সালে নিজেদের ৩৮ শতাংশ জমি দিয়ে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেছিলাম। দোচালা আধাপাকা সেই টিনের ঘর আজ প্রায় ৩১ বছর ধরে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। আমরা কেউ লেখাপড়া শিখতে পারিনি। তাই আমাদের সন্তানসহ গ্রামের অন্য পরিবারের ছেলেমেয়েরা যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে, সেই আশায় স্কুলটি তৈরি করেছিলাম। শুরু থেকে ২০/২৫ জন ছাত্রছাত্রী নিয়মিত ছিল। এ বিদ্যালয়ে প্রথম দিকে লেখাপড়া শিখে অনেকেই চাকরি পেয়ে পরিবার নিয়ে বাইরে থাকে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিন্টু মণ্ডল এই বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শিখে এখন পরিবার নিয়ে পাশের উপজেলা কেশবপুরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের জন্য বাইরে থাকতে হয়। এছাড়া ছোট্ট এই গ্রামটিতে যাতায়াতের জন্য চিকন একটি ভাঙা ইটের রাস্তা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কোনোভাবেই যাতায়াত করা যায় না। পাশে নতুন ভবনের বিদ্যালয় আছে। এছাড়া এখন একটি বা দুইটির বেশি কেউ সন্তান নেয় না। পাশের মান্দ্রা গ্রামের হরমুজ মোল্যা (৬২), মধুসুদন ধর (৫২), রজব আলী মোল্যা (৭২), ময়নাপুর গ্রামের গুরুচাঁদ মণ্ডল (৭০) বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। গ্রামটির রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ করলে হয়তো পাশের গ্রামের শিশুরা ঐ বিদ্যালয়মুখী হতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী বলেন, তিনিসহ বিচিত্রা মল্লিক ও জ্যোতিষ বৈরাগী নামের দুই জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসের জরিপে ২৯টি পরিবার বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত (ক্যাসমেন্টভুক্ত) হয়েছে। তবে পরিবারগুলোতে শিশুরা ছোট। ফলে এক জন ছাত্রকে নিয়ে আমরা তিন জন শিক্ষক রয়েছি। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জরিপ রিপোর্ট জমা দিয়ে জানিয়েছি। এছাড়া গত সাত বছরে এলাকায় তেমন কোনো নতুন শিশুর জন্ম হয়নি। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার আতিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী সার্ভের পর গত মার্চ মাসে ময়নাপুর স্কুলটি বন্ধের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে লিখেছি। কিন্তু এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুদ্দোহা বলেন, ঐ স্কুলটি বন্ধ করে সেখানকার শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করার জন্য ঢাকায় লিখেছি। সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্হা নেওয়া হবে। তবে ডুমুরিয়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরবিন্দ মণ্ডল বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যদি পড়ালেখার মান ভালো হতো, তাহলে যত্রতত্র এত কিন্ডার গার্টেন গড়ে উঠত না বা সরকারি স্কুলে ছাত্রছাত্রীরও ঘাটতি হতো না। আর যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম সেখানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ডুমুরিয়ায় ভিলেজ সুপার মার্কেট কাজে আসেনি

খুলনা শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল’

জঙ্গল থেকে স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, যুবক আটক

পাইকগাছায় গোলপাতার চাহিদা কমছে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পাইকগাছায় নৈরনদীতে নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ

খুলনায় ধর্ষণ মামলায় পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার

রূপসা নদীতে বজ্রপাতে নিখোঁজ মাঝির লাশ উদ্ধার

খুলনায় জনশুমারি ও গৃহগণনা শুরু