রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পান্থকুঞ্জ পার্ক এখন ময়লার ভাগাড়

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১০:১১

কোথাও বড় বড় গর্ত। আবার কোথাও মাটির ঢিবি। ময়লা-আবর্জনা জমে স্তূপ হয়ে আছে। মানুষের মলমূত্রের গন্ধে টেকা দায়। এটি রাজধানীর কাওরান বাজারের পান্থকুঞ্জ পার্কের চিত্র। ইট-পাথরের এই শহরে যে পার্ক মানুষকে স্বস্তি দিবে, সেটিই এখন অস্বস্তির কারণ। এছাড়া ভাসমান মানুষের আবাসস্থল ও রাতের বেলা মাদক ও অনৈতিক কাজ হচ্ছে পার্কে।

পার্কটি আধুনিকায়নের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরা হয়। এক বছরের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের পরে জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে দক্ষিণ সিটি জানতে পারে, পার্কের এক পাশে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়ালসড়ক প্রকল্পের দুই থেকে তিনটি খুঁটি বসতে পারে। এর পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয় উন্নয়নকাজ। কাজ বন্ধের পর অব্যবস্থাপনা আর তদারকির অভাবে পার্কটি এখন পরিত্যক্ত ভাগাড়। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পার হলেও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় শুরুই হয়নি। কিন্তু পার্কের ভেতর চলছে নানা অপরাধমূলক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পার্কটি সোনারগাঁও হোটেলের পাশের অংশে আগে টিন দিয়ে ঘেরা থাকলেও এখন সেটি খোলা রয়েছে। তবে অন্যপাশে এখনো টিন দিয়ে ঘেরাও। আর ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল মাটির উঁচু ঢিবি। এর পাশেই পড়ে আছে ময়লার স্তূপ। চারদিকে মানুষের মলমূত্রের উৎকট গন্ধ। আবার হাঁটার জন্য মাটি কাটা অংশে পানি জমে আছে। চারদিকে জঙ্গল হয়ে গেছে। এটি যে একটি পার্ক তা দেখে বোঝার উপায় নেই। পার্কটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি কোনোভাবেই ব্যবহার করার উপায় নেই। টিনের ছাপরা দিয়ে ঘর তুলে সেখানে কিছু ভাসমান মানুষ বসবাসও শুরু করেছে। সবচেয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা দেখা যায় রাতের বেলা। এখানে মাদকের আড্ডা বসায় মাদকসেবীরা। এছাড়া অনৈতিক কাজও চলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পার্কের পাশে পার্কিংয়ে থাকা একজন রিকশাওয়ালা জানান, রাতের বেলা অনৈতিক কাজের জন্য এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে যৌনকর্মীরা ভিড় করে। পার্কের ভেতর অনেক দিন জঙ্গল পরিষ্কার না করায় এখন এটি অপরাধের আখড়া হয়ে উঠছে। এছাড়া গাঁজা সেবনও চলে এখানে। স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল হক জানান, ব্যস্ত এ এলাকায় এমন পার্ক আশেপাশে আর নেই। এটি অবসর কাটানোর একমাত্র জায়গা ছিল। কিন্তু সেটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে যদি এটির এই হাল হয়, তাহলে আর উন্নয়নের দরকার কি ? দ্রুত পার্কটি জনসাধারণের জন্য ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, পার্কটির নকশা পরিবর্তন করে উন্নয়নের কথা ভাবছে সিটি করপোরেশন। তবে সেই কাজ কবে শুরু হবে সেটি সঠিকভাবে কেউ বলতে পারছে না। এ বিষয়ে ঐ এলাকার কাউন্সিলর মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, পার্কটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। নকশা পরিবর্তন করে পার্কটির উন্নয়ন করে খুব শিগ্গিরই ব্যবহার উপযোগী করার আলোচনা চলছে। আশা করছি, খুব শিগ্গিরই এটিতে সাধারণ মানুষ আগের মতো সুন্দর সময় কাটাতে পারবে। এ বিষয়ে জানার জন্য ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুন্সি আবুল হাসেমকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জনের ডেথ রেফারেন্স শুনানি শিগগিরই

বিশেষ সংবাদ

২৯ বছর পর ফিরে পেলেন পিতৃপরিচয়

বিশেষ সংবাদ

রাজধানীতে জ্বর-সর্দির প্রকোপ বাড়ছে

বিশেষ সংবাদ

‘বড় লোক হওয়ার এতই উচ্চাকাঙ্ক্ষা!’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

জামিন বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দায়রা জজ

বিশেষ সংবাদ

ঝুঁকিপূর্ণ বুড়িগঙ্গা সেতু, বিপাকে পড়তে পারে পদ্মা সেতুগামী গাড়ি

বিশেষ সংবাদ

মাদকের আখড়া রাজউক ভবন: কে বা কারা সেবন করে জানে না কেউ! 

বিশেষ সংবাদ

কেন হোটেল-রেস্তোরাঁর পরিবর্তে ফুটপাতের দোকানে ঝুঁকছে মানুষ