শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খালাস চেয়ে হাজী সেলিমের আপিল

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১০:৩৭

দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টে বহাল থাকা ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। আইনজীবীর মাধ্যমে খালাস চেয়ে তিনি এই জামিন আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকালে হাজী সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (২৩ মে) তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কারাগারে থাকা হাজী সেলিমকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত তিনি। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
 

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

এ মামলায় ১৩ বছর আগে বিচারিক আদালতের রায়ের পর তাকে মাসখানেক কারাগারে থাকতে হয়েছিল। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিনে বের হন তিনি। মাঝের এ সময়ে তিনি দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হাজী সেলিম ও তার স্ত্রী গুলশান আরার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিচারিক আদালত ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল রায় দেন। রায়ে হাজী সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে তাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনে হাজী সেলিমকে সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী গুলশান আরাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই দম্পতির অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ২৭ কোটি টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে হাজী সেলিম এবং ২০১৩ সালে তার স্ত্রী আলাদা আপিল করেন।

হাজী সেলিমের আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি তার সাজা বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে।

দুদকের আপিলের শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে হাইকোর্টে হাজী সেলিমের আপিলের ওপর আবার শুনানি করতে বলা হয়।

হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর মারা যান। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি হাজী সেলিমের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। সঙ্গে তার স্ত্রীর করা আপিলটিও হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। হাজী সেলিম দম্পতির করা আলাদা আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ৯ মার্চ হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছরের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে সম্পদের তথ্য গোপনের জন্য বিচারিক আদালতের দেওয়া তিন বছরের কারাদণ্ড থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা মারা যাওয়ায় তার আপিলটি বাতিল (অ্যাবেট) করা হয়। হাজী সেলিম সম্প্রতি কঠোর গোপনীয়তায় দেশ ছেড়েছিলেন। তার এই দেশত্যাগ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হয়। দণ্ড নিয়ে তাকে দেশত্যাগে যারা সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের শাস্তির দাবি ওঠে। পরে তিনি দেশে ফেরেন। 

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

‘বড় লোক হওয়ার এতই উচ্চাকাঙ্ক্ষা!’

সম্রাটের জামিন শুনানি পেছালো

নর্থ সাউথের ট্রাস্টি বোর্ডের চার সদস্যের অধিকতর জামিন শুনানির তারিখ ঘোষণা

বিশেষ সংবাদ

জামিন বাতিল ইস্যুতে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন দায়রা জজ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দুই আইনজীবীকে আটক-রিমান্ডের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল খারিজ

আমার সঙ্গে যেটা করা হয়েছে সেটা অমানবিক-মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়: ব্যারিস্টার তুরিন

‘দল সমর্থিত নির্বাচন থেকে সুপ্রিম কোর্ট বারকে মুক্ত করার আহ্বান’

অবৈধ সম্পদ অর্জন: সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩০ আগস্ট