মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে মা ও শিশুর মৃত্যুর হার শূন্য হলো যেভাবে

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১০:৫৫

সরকারের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই শুধু কাজ করার আগ্রহ থাকলেই বদলে দেওয়া যায় সমাজকে, বদলে দেওয়া যায় মানুষের জীবন, সেবাকে নিয়ে যাওয়া যায় মানুষের দোরগোড়ায়, নিশ্চিত করা যায় সেবা। এটা প্রমাণিত হয়েছে বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে। সেখানে এখন মা ও শিশুমৃত্যুর হার শূন্য। মাত্র তিন বছরের চেষ্টায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে পৃথক বাজেট বরাদ্দ দিয়ে সেখানে মাতৃত্বকালীন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সমন্বিত পদক্ষেপে তৃণমূলে সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের চতুর্থ বারের মতো নির্বাচিত চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাচ্চু জানালেন, মা ও শিশু মৃত্যুহার কীভাবে শূন্য হলো, সেই অর্জনের গল্প। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (উন্নয়ন পরিকল্পনা) বিধিমালা ২০১৩ অনুযায়ী ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ খাতে বরাদ্দ রাখি। যেখানে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ও কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়। ঐ বরাদ্দের যথাযথ বাস্তবায়ন ও বেসরকারি সংস্থা মেরী স্টোপসের সহায়তায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সফল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিশেষ বাজেট পরিবার পরিকল্পনা সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ বরাদ্দ থেকে স্থানীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স কেনা, এমনকি স্থানীয়ভাবে ইজিবাইককে (ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান) অ্যাম্বুলেন্স (অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার/বেড ইত্যাদি স্থাপন করে) বানিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গর্ভবতী মায়েদের যাতায়াতকে সহজ করেছে। এ ছাড়া ঐ বাজেট থেকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের রাস্তা সংস্কার, সোলার প্যানেল স্থাপন, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সংস্কার, অক্সিমিটার, ডেলিভারি বেড, লজিস্টিক ইক্যুইপমেন্ট, গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ও আসবাবপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে, যা মা ও শিশুস্বাস্হ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে সহজ করতে বিশিষ্ট নাগরিকদের অ্যাডভোকেসি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দের সচেতনতা বৃদ্ধি ও কাজে আগ্রহী করে তুলেছেন। মাত্র তিন বছরে তার ফলও পাওয়া গেছে।

ঐ অঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মেরী স্টোপস’ ও ‘সুশীলন’। মেরী স্টোপস-বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি লিড মনজুন নাহার জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৩৭টি উপজেলার ৩২৩টি ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। সুশীলনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, গর্ভবতী মায়েদের সেবায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব বাজেটে পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সুশীলন দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী মহিউল ইসলাম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের অভাব রয়েছে। তবে কাজের সমন্বয় ও তদারকির সংকট সব থেকে বেশি। তাই সবার মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিত কার্যক্রমের ফলেই বাগেরহাট-পিরোজপুর অঞ্চলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্রদের সহায়তায় ১ লাখ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ

এমবিবিএস পাশ না করেই ডাক্তার!

মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হচ্ছে বন্যা, ৪ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

স্বপ্ন জয়ের গল্প শোনালেন পদ্মা সেতু পারের মানুষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সারাদেশে চলছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

বিশেষ সংবাদ

ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয়, কোন পথে শিশুরা

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২০

রানা প্লাজা ট্র্যাজিডি: মাতৃস্নেহে অরকা হোমসে বেড়ে উঠছে ৫৬ শিশু