আম্পায়ার যেন পণ করে নেমেছিলেন ক্রিস গেইলকে এলবিডব্লিউ’র মাধ্যমেই মাঠ ছাড়া করতে হবে। তাই তো এই ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে পাঁচ ওভারের মধ্যে তিনবার একই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। গেইলও নাছোড়বান্দা। তিনবারই প্রয়োগ করেন রিভিউ’র ক্ষমতা। দু’বারই সফল হন।
তবে তৃতীয়বারে রিভিউতে ব্যর্থ হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। যদিও সেই বলটিও লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের দিকের লাইনে ছিল। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে থাকায় এই দফায় আর রক্ষা হলো না তার। ১৭ বল থেকে ২১ রান করে গেইল অবশ্য ভালো একটা সূচনার আভাসই দিয়েছিলেন। গেইলের আগে দ্বিতীয় ওভারে আউট হন এভিন লুইস। ১০ ওভারের খেলা শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ তাই দুই উইকেটে ৫৪ রান।
নটিংহ্যামে বৃহস্পতিবার বিকেলে টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপ। তার এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার প্রমাণ শুরু থেকেই রাখতে থাকেন বোলাররা। দলীয় ১৫ রানে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম আঘাত হানেন ওশান থমাস। দলীয় স্কোরে ১১ রান যোগ হতেই আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ফিরেন শেলডন কটরেলের বলে।
এই ধারায় দলীয় ৭৯ রানের মধ্যে একে একে মাঠ ছাড়েন ওসমান খাজা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মার্কস স্টয়েনিস। শুরুতে আউট হওয়া পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে স্টয়েনিস (১৯) ও ওসমান খাজা (১৩) ছাড়া কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
এরপর স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অ্যালেক্স ক্যারি। ষষ্ঠ উইকেটে এ দু’জন ৬৮ রান যোগ করে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন। এ সময় ক্যারি ৪৫ রান করে আউট হন। এরপর স্মিথের সঙ্গী হন কোল্টার ডি নাইল। এ দু’জনের ১০২ রানের জুটিই মূলত অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু ইনিংস গড়তে সাহায্য করে। দলীয় ২৪৯ রানে স্মিথ আউট হন। ১০৩ বল থেকে ৭টি চারের মারে তিনি করেন ৭৩ রান।
স্মিথ ফিরে গেলে বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে আর ৩৯ রান যোগ করতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত এক ওভার বাকি থাকতেই ২৮৮ রান তোলে তারা। নাইল ৬০ বল থেকে ৯২ রানের দারুণ একটা জুটি গড়েন। মেরেছেন ৮টি চার ও চারটি ছক্কা। ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া আন্দ্রে রাসেল, শেলডন কটরেল ও ওশান থমাস দুটি করে উইকেট নেন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। অপরদিকে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যাত্রাও শুরু হয়েছে জয় দিয়েই। তাই এই ম্যাচ দু’দলের জন্যই এগিয়ে যাওয়ার লড়াই।
ইত্তেফাক/কেআই
