নির্দিষ্ট সময়ের আগে নবজাতকের জন্ম হলে অন্যান্য রোগের সঙ্গে চোখেরও সমস্যা হয়। মাতৃগর্ভে শিশু নির্দিষ্ট সময় থাকার সুযোগ না পেয়ে জন্ম নিলে নবজাতকের এ ধরনের জটিলতা হয়। এ কারণে অপরিণত বয়সে নবজাতকের জন্ম হলে, দেরি না করে দ্রুত এক জন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। অন্যথায় শিশু সারা জীবন চোখের সমস্যায় ভুগবে। আরওপির চিকিৎসা দেশেই রয়েছে। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহিদ ডা. মিলন হলে আয়োজিক ‘ন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিম্পোজিয়ামে সারা দেশ থেকে রেটিনা বিশেষজ্ঞ, শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিশুদের চিকিৎসক, নিউন্যাটোলজিস্ট, গাইনোকোলজিস্টরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বাদল। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জাফর খালেদ।
অনুষ্ঠানে মো. সাইফুল ইসলাম বাদল বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের রোগ আরওপি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য বেশি প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন। যারা শিশু রোগ নিয়ে কাজ করেন তারা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দেশব্যাপী এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, তিনি ১০ বছর ধরে আরওপি রোগ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য কাজ করছেন। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ রোগ সম্পর্কে নানান সভা সেমিনার সিম্পোসিয়াম করা হয়েছে। যার ফলে শিশুদের আরওপি রোগ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে অভিভাবকরা আসতে শুরু করেছেন।
৬৪টি জেলায় নিউ ন্যাটাল আইসিইউ স্থাপন করা হচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য ইউনিসেফ অত্যন্ত দামি ৮টি রেটিনাল আরটি ক্যামেরা দিয়েছে। একটি আরটি ক্যামেরার দাম কম করে হলেও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মতো হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিগত বছরের তুলনায় অন্যান্য রোগের মতো শিশুদের রোগের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আমরা গত ১০-১২ বছর ধরে এ রোগ নিয়ে কাজ করছি। তারই অংশ হিসেবে অপরিণত নবজাতকের চোখের রোগের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কেবিন ব্লকের ৩য় তলায় আরওপি সেন্টার চালু করা হয়েছে।
যারা শিশুদের এ রোগের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত তাদের এসব বাচ্চাদের স্ক্রিনিং ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’ সিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের হায়দ্রাবাদের এলভি প্রসাদ আই ইনস্টিটিউটের ডা. সুভদ্রা জালালী ও কলকাতার চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. অভিজিত চট্টোপাধ্যায়, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল খালেদ, অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী প্রমুখ।
