বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পর্যটকে মুখরিত গুলিয়াখালি সি-বিচ, দিন দিন বাড়ছে কর্মসংস্থান 

আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ১৯:১৯

সীতাকুণ্ডে গুলিয়াখালি সি-বিচ সরকারিভাবে পর্যটন শিল্প হিসেবে ঘোষণা হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হচ্ছে এলাকাটি। এখানে দিন দিন বাড়ছে কর্মসংস্থান। এদিকে, জেলা ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করে হোটেল-মোটেল গড়ে তোলার জন্য এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে সরকারিভাবে গুলিয়াখালি সি-বিচটি পর্যটন শিল্প হিসাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের চাপ কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতকে সরকারিভাবে উন্নত করতে মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে পর্যটন এলাকা ঘোষণার পর জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ করে।বাকি আছে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ।হোটেল-মোটেল জোন করতে জায়গা অধিগ্রহণ ও খাস জায়গা শনাক্তের কাজও শুরু করে। অপরূপ গুলিয়াখালি সৈকতের সোনালি গোধূলী পর্যটকদের মন প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।বাহারি রঙের বৃক্ষ আর সবুজের সমারোহে পরিবেশকে আরও সৌন্দর্যময় করে তোলে।

বিশাল আয়তনের এই পর্যটন স্থানটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক অধির আগ্রহে এখানে ঘুরতে আসেন।বিশেষ করে ঢাকা থেকে গুলিয়াখালি সি-বিচে আসতে ভাড়া কম বিধায় পর্যটকরা ঘন ঘন দেখতে চলে আসেন।কারণ কক্সবাজার সৈকতটি অনেক দূরে এবং ভাড়াও অনেক বেশি।গুলিয়াখালি সি-বিচে এক দিকে দিগন্ত জোড়া জলরাশি আর অন্যদিকে কেওড়া বন।আরও আছে মন মাতানো সবুজ গালিচার বিস্তৃত ঘাস।তার মাঝে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা ছোট ছোট নালা। জোয়ারের পানিতে সবুজ ঘাসের ফাঁকে নালাগুলো জোয়ারে কানায় কানায় ভরে ওঠে।এরই মাঝে চলে আসে ছোট ছোট লাল আকৃতির কাঁকড়া।আর তখন পর্যটকদের সঙ্গে আসা ছোট বাচ্চারা আনন্দে লাফালাফিতে মেতে ওঠে।আর জোয়ার চলে গেলে ফিরে যায় আগের অবস্থায়।

পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সি-বিচ

মৃদু বাতাস আর গাছের পাতার ফিসফিসানিতে তৃপ্ত দুপুর, স্নিগ্ধ বিকেল কিংবা বিষণ্ন সন্ধ্যাটি যেকাউকে মাতিয়ে তুলবে বর্ণিল আলোকচ্ছটায়।খাল ধরে এগিয়ে গেলে মিলবে সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগের এক অভাবনীয় মুহূর্ত।চোখের সামনে এক অনন্য সুন্দরের সৈকত।গুলিয়াখালি সমুদ্র তীরকে সাজাতে কোনো ধরনের কার্পণ্য করেনি প্রকৃতি।সবকিছু মিলে এ যেন প্রকৃতির এক অন্যরকম ‘আর্শীবাদ’।দেখা মিলবে সোয়াষ্প ফরেস্ট আর ম্যানগ্রোভ বনের অন্যরকম মিলিত রূপ।

গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনের আওতায় আনতে নেওয়া হয় এক মহাপরিকল্পনা। রাস্তার প্রশস্তকরণ, রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়ন, হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ভূমি জরিপের মাধ্যমে দেওয়া হয় প্রস্তাবনা। গুলিয়াখালি সি-বিচটি সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণার সাথে সাথে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হতে শুরু করেছে।এমনকি পর্যটকরা রাতেও দেখতে আসেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করার জন্য এখনই অন্তত লাইটিং ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।কারণ, বিচের বেড়িবাঁধ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে বিদ্যুতের লাইন এসে গেছে বসবাসকৃত মানুষের ঘরবাড়িতে।আর সমুদ্র সৈকতে বিদ্যুৎ এসে গেলে যেমন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের পথ আরও বেড়ে যাবে। 

গুলিয়াখালি বিচটি পৌর সদর বাজার থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার হবে।পৌর সদর নামার বাজার থেকে সিএনজিতে যাতায়াত ভাড়াও জন প্রতি ২০ টাকা।আর রিজার্ভ গেলে ১০০ টাকা ভাড়া লাগে।বর্তমান অবস্থায় আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না লাগলেও এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দল বেঁধে অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসেন অপরূপ প্রকৃতির নয়নাভিরাম এই সৈকতে।

দেয়।বাহারি রঙের বৃক্ষ আর সবুজের সমারোহেদেয়।বাহারি রঙের বৃক্ষ আর সবুজের সমারোহ বাহারি রঙের বৃক্ষ আর সবুজের সমারোহ যেখানে

সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্টপোষকতা পেলে গুলিয়াখালি সমূদ্র সৈকত হতে পারে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্থান।আর তা সম্ভব হলে দেশের পর্যটন খাতে বিশাল অবদান রাখবে। সরকারিভাবে অধিকতর গুরুত্ব দিলে এটি একটি বিশ্বমানের পর্যটন হিসাবে গড়ে উঠবে। 

পৌর সদর থেকে সি-বিচে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত দেখে পর্যটকদের মন জুড়িয়ে যাবে।এসব ক্ষেতে টমাটো, তরমুজ, বাঙ্গি, চাল কুমড়া, লাউসহ বিভিন্ন জাতের ফসল।মন চাইবে গাড়ি থেকে নেমে এসব ফল কিনে খেতে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের চাপ কমাতে গুলিয়াখালি সমুদ্র তীরকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

ইত্তেফাক/এএইচ 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা: গ্রেফতার ৪ তরুণ রিমান্ড শেষে কারাগারে

পচা ডিম ফেলায়...

ঈদ উপহার নিয়ে এতিম শিশুদের পাশে মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন 

হাটহাজারীতে জমজমাট কামারপাড়া 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিএম কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণে মালিক কর্তৃপক্ষ দায়ী

সামনে ঈদ, সিলেট-সুনামগঞ্জের অর্ধকোটি মানুষ অসহায়

বাঘায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ 

পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপারের সময় ৩ ট্রাকচালক আটক