স্বস্তি ফিরলো শেয়ারবাজারে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ০৯:২৯

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুর দিকে শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও শেষ আধা ঘণ্টার চমকে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬১টির। আর ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপর দিকে লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ২০০ কোটি টাকার কম লেনদেন হলেও শেষ পর্যন্ত ৫৩৯ কোটি ১২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয় ৫১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ২৬ কোটি ১ লাখ টাকা। ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৬০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ৩৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন সুজ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং, জিএসপি ফাইন্যান্স, শাহিনপুকুর সিরামিক, এসিআই ফরমুলেশন এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৬২ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৮টির এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগে আট কার্যদিবসের টানা দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৫৫৫ পয়েন্ট কমে গেলে গত রবিবার মার্জিন ঋণের হার বাড়িয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসি থেকে মার্জিন ঋণের হার বাড়ানোর পাশাপাশি ঐদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, জ্যেষ্ঠ অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহকে নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে শেয়ারবাজার ভালো করতে দিকনির্দেশনা দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী ও বিএসইসি থেকে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় সোমবার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক একদিনেই ১১৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সূচকের এমন উত্থানের পরপরই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিএসইসি। বিএসইসি পদক্ষেপের পরেও গত মঙ্গলবার ও বুধবার শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। এমনকি ডিএসইতে লেনদেন কমে বুধবার ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেনের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্হিতিতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেন বাড়লেও এই ধারা কত দিন টিকে থাকে তা এখন দেখার বিষয়। 

ইত্তেফাক/কেকে