অবাধে বালু উত্তোলনে কুষ্টিয়ায় ঝুঁকিতে দুই সেতু

আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ০৯:৩৪

কুষ্টিয়ায় বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘন করে ইজারা ছাড়াই সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র গড়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে গড়াই নদীর ওপরের মীর মশাররফ হোসেন সেতু এবং এর কয়েক মিটারের মধ্যে থাকা দেশের প্রাচীনতম রেলসেতুর পাশ থেকে বালু তোলার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে সেতু দুটি। অব্যাহত বালু উত্তোলনে সেতুর ঝুঁকির বিষয়টি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মৌখিক জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর ঘেঁষে প্রবাহিত গড়াই নদীসংলগ্ন জয়নাবাদ ও রাহিনী মৌজাভুক্ত বালুমহাল চলতি অর্থবছর ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রভাবশালী চক্রটি সেতুর পিলারের কাছাকাছি অংশ ও তীরবর্তী এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। গত প্রায় দেড় মাস যাবৎ প্রতিদিন ১০/১২টি এক্সকাভেটর ও মাটি কাটা যন্ত্র ব্যবহার করে সেতু উত্তোলিত হচ্ছে শত শত ট্রাক বালু। এতে পাশাপাশি নির্মিত জাতীয় সম্পদ রেলসেতুসহ সড়ক সেতুটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীসহ স্থানীয়দের আশঙ্কা। 

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি নিজে ঐ স্থান পরিদর্শন করেছি। সড়ক বিভাগের সেতুর কাছাকাছি বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় সেতুটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মৌখিক অবহিত করার পর এবার জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গড়াই নদীসংলগ্ন উত্তরে জয়নাবাদ ও দক্ষিণে রাহিনী মৌজাভুক্ত বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী সেতুর এক কিলোমিটারের বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বেআইনিভাবে বালু উত্তোলন করা হলে ইজারা বাতিলসহ আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/ইআ