মাঠ পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ‘লবণ বোর্ড’ করা হবে: শিল্পমন্ত্রী 

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ২২:০২

উৎপাদন বাড়াতে লবণ চাষিদের হাতেই ন্যায্যমূল্য পৌঁছানো নিশ্চিত জরুরি উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, বর্তমান সরকার মাঠ পর্যায়ে লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আন্তরিক। প্রান্তিক পর্যায়ে লবণ চাষিদের স্বার্থে কাজ করছে শেখ হাসিনার সরকার। লবণকে রপ্তানি পণ্যে রূপান্তর করতে কক্সবাজারেই লবণ বোর্ড স্থাপনে কাজ চলছে। একই সাথে কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধু লবণ ইনস্টিটিউটও করা হবে। এ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে লবণ চাষিদের উন্নয়নে আয়োজন হবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের। 

শনিবার (২৮ মে) দুপুরে কক্সবাজারের তারকা হোটেল সায়মনের সম্মেলন কক্ষে 'সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন' শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শিল্প মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী লবণচাষীদের প্রতি খুবই আন্তরিক। পরিকল্পিত ভাবে এগুনোর কারণে সকল ক্ষেত্রে সফলতা আসছে। লবণকে রপ্তানি পণ্য করতে উদ্যোগী হতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই লক্ষ্যে পতিত জমিতেও চাষাবাদ বাড়ানোর তাগাদা দেয়া হয়েছে। এখন লবণ বোর্ড ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, কোন মাঠ ভরাটে ১২ টাকা ফি দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে লবণ কেন কমদামে বিক্রি হবে? লবণের ন্যায্যদাম পেলেই মাঠে নামার আগ্রহ পাবেন চাষিরা। তাই ন্যায্যমূল্য যেন প্রান্তিক চাষিরা পান সেটা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, প্রান্তিক চাষিরা সবসময় বঞ্চিত হয়ে আসছেন। মাঠের লাগিয়ত, শ্রমের খরচের সাথে লবণের মূল্যে বৈষম্যের শিকার হলে চাষিরা পরবর্তীতে চাষ করার আগ্রহ হারায়। বছরের পর বছর লবণের চাহিদা বাড়ছে। ২০১৮ সালে ১৬ লাখ মেট্রিক টন চাহিদা ২০২২ সালে এসে ২৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। জীবন সংশ্লিষ্ট সবকিছুর মূল্য বেড়েছে, কেবল বাড়েনি মাঠপর্যায়ের লবণের দাম। চাষকালে লবণের মণ প্রতি দাম ছিল ২০০-২৫০ টাকা। এ টাকা খরচও পড়েছে। কিন্তু এখন মণ প্রতি ৪০০-৪২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম শেষ হওয়ায় চাষিদের হাতে কোন লবণ নেই। মধ্যস্বত্বভোগীরাই বাড়তি দামটি পাচ্ছে। সিন্ডিকেট করে চাষিদের ঠকিয়ে লবণ গুদামজাত করা হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা দরকার। একটি স্বয়ং সম্পন্ন কৃষি ক্ষেত্র হিসেবে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে তদারকি ও প্রণোদনা দিলে লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র আরও বাড়বে। 

কক্সবাজার-৩ আসানে সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে গত ছয় বছরে অনেক বৈঠক, সভা, সেমিনার হয়েছে- কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লবণ বোর্ড স্থাপন না হলে বৈঠকের গল্প কেবল গল্পই থেকে যাবে। দেশের চাহিদামতো শতভাগ উৎপাদিত কৃষি ও শিল্প পণ্য হিসেবে লবণকে আরও অগ্রগামী করতে হলে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ে লবণ বোর্ড গঠন খুবই জরুরি। 

ইত্তেফাক/এমএএম