ইবি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেই উদ্যোগ

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ১৪:৩৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কাউন্সেলিং কার্যক্রমের ব্যবস্থা নেই। বিভাগগুলোতে শিক্ষকদের কাউন্সিলিং করার নির্দেশনা দেয়া থাকলেও তা নিয়মিত হয়না। চিকিৎসা কেন্দ্রেও কাউন্সেলিংয়ের জন্য নেই আলাদা কোনো ইউনিট বা স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। এতে করে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা হতাশা, মানসিক অবসাদ, বিষণ্ণতা ইত্যাদিতে ভুগলে তা প্রতিরোধে উপযুক্ত সেবা ও পরিবেশ কোনটিই পায় না। এমনকি এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। 

ফলে সামান্য ঘটনায় অসহিষ্ণু আচরণ, রাগ-ক্ষোভ নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে ঝগড়া, মারামারি, জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রকে মারধরের মতো একাধিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। হতাশা থেকে মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়াদের সংখ্যাও নেহাতই কম নয়। এদের অনেকেই ভুগছেন মানসিক সমস্যায়। এমনকি নানাবিধ কারণে গত ৫ বছরে এখানকার অন্তত ৯ শিক্ষার্থীর আত্নহুতির পথ বেছে নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের টানাপড়েন, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়া, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, পরিবারের প্রত্যাশার চাপ, একাকীত্ব ইত্যাদি তাদের মানসিক অবসাদের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নানা অনিশ্চয়তা, শঙ্কায় পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে হতাশা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রেজওয়ান বলেন, ভর্তির পর থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সচেতনতা মূলক কর্মসূচি চোখে পড়েনি। চিকিৎসা কেন্দ্রে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। শিক্ষাজীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা জরুরি। তবে এই সেবা থেকে বঞ্চিত এখানকার শিক্ষার্থীরা। 

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর ড. শাহজাহান মন্ডল বলেন, আসলে মনের যে রোগ হতে পারে এটা আসলে আমরা ভাবতেই পারি না। ভাবতে চাই না কিন্তু মনের রোগ আসলে অনেক বড় রোগ। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ একান্ত প্রয়োজন। মনোরোগ বিষয়ক কার্যক্রম গুলো ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের অধীনে বা আলাদা করেও পরিচালিত হতে পারে। এছাড়া শিক্ষার মধ্যে আনন্দ সৃষ্টি করা দরকার। সেই সাথে টিএসসিসি ভুক্ত সংগঠনগুলোকে চাঙা করতে হবে। 

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সেলিনা নাসরিন বলেন, হল ও শ্রেণীকক্ষে মাঝেমাঝে সচেতনতা তৈরি ও অনুপ্রাণিত করতে কাজ করে থাকি। তবে শ্রেণী কক্ষের বাইরে কাউন্সিলিং আওয়ার তৈরি ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম করতে হবে। সেটা হতে পারে বিভাগের চেয়ারম্যান, ডিন, ছাত্র উপদেষ্টা অফিস, হলবডি কিংবা প্রশাসনের উদ্যোগে। স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আসলে প্রশাসনিক ব্যাপার। তবে চিকিৎসা কেন্দ্রের সার্কুলারে মানসিক ডাক্তার নিয়োগের কথা বলা আছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হয় তাহলে তাদের বন্ধুবান্ধব, অভিভাবক, শিক্ষক, হলের হাউজ টিউটর সবার পাশে দাঁড়ানো উচিত। দ্রুত সময়ে ছাত্র উপদেষ্টা, হলের প্রভোস্ট, চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। যাতে করে কোনো শিক্ষার্থীর এধরনের সমস্যার কথা শোনা গেলে দ্রুত সময়ে কাউন্সিলিং ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যায়। 

ইত্তেফাক/এআই