তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপিসহ যারা পদ্মা সেতু চায়নি, তাদের সমস্ত অপতৎপরতার পর যখন পদ্মা সেতু হয়েছে তখন লজ্জায় তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে।
রবিবার (২৯ মে) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ সব কথা বলেন।
‘সমগ্র দেশের মানুষ আজকে উচ্ছ্বসিত, পদ্মা সেতু কখন উদ্বোধন হবে সেজন্য উদ্বেলিত এবং এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ দিলে সেতুর ৬ কিলোমিটার মানুষে ভর্তি হয়ে যাবে’উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মুখে চুনকালি পড়ায় বিএনপি মানুষের এই উচ্ছ্বাস যাতে না থাকে সেজন্য দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে সন্ত্রাস করছে, বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশের নামে আবার সন্ত্রাস, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণকে নিয়ে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা, অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ‘পদ্মা সেতুতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে’ মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে যারা দেশকে পরপর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল- স্বাভাবিকভাবেই তারা এ সমস্ত কথা বলবে। প্রতিবছর দু’কূল ভাঙা খরস্রোতা পদ্মা নদী এতো বিশাল যে, কোনো কোনো জায়গায় এর প্রস্থ ১৪ কিলোমিটারেরও বেশি। যেখানে পদ্মা সেতু করা হয়েছে সেখানে প্রস্থ অন্য জায়গার চেয়ে কম। এ রকম বিশাল খরস্রোতা নদীতে সেতু করা দুরূহ কাজ। এটি নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে করতে কয়েক বছর সময় নষ্ট হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার কারণে সাশ্রয়ী ব্যয়ে সেতু হয়েছে।’
ঢাকায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেলে বেশি স্টেশন -বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব করোনা ভাইরাসের প্রকোপ যখন বেশি ছিল- তখন ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে তিনি ইঞ্জিনিয়ারও হয়ে গেছেন। আমি প্যারিস, লন্ডন, ব্রাসেলসসহ বহু দেশের মেট্রোতে চড়েছি, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে এক কিলোমিটারের কম দূরত্বেও স্টেশন আছে। সেসব শহরের তুলনায় ঢাকায় মানুষের ঘনত্ব অনেক বেশি, যানজটও তুলনামূলকভাবে বেশি। সুতরাং এখানে ঘনঘন মেট্রোরেলের স্টেশন হওয়াই যৌক্তিক। তবে যেটি পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটি কোনোভাবেই প্যারিস, লন্ডনের তুলনায় বেশি ঘন নয়।’

একটি মহল শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে চায় : শিক্ষামন্ত্রী