বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি, বন্ধ চলন্ত সিঁড়ি, সক্রিয় ছিনতাইকারী

আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ০২:৫৯

একপাশে বিমানবন্দর রেল স্টেশন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আর পূর্বপাশে দক্ষিণখান ও উত্তরখানের বিশাল এলাকা। পুরো এলাকার মানুষের প্রধান সড়ক পার হওয়ার একমাত্র ভরসা বিমানবন্দর ফুটওভারব্রিজ। সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। অল্প বৃষ্টিতেই জমছে হাঁটুসমান পানি। আবার দুই পাশের ফুটওভারব্রিজে উঠার চলন্ত সিঁড়ি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায়, একটি সিঁড়ি দিয়েই উঠতে ও নামতে হচ্ছে পথচারীদের। এ যেন ভোগান্তির শেষ নেই। শুধু তাই নয়, ফুটওভারব্রিজকেন্দ্রিক ভবঘুরে ও মাদকসেবী ছিনতাইকারীদের আশ্রয়স্হল হয়ে উঠেছে এটি।

জানা যায়, নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের নকশা ও তাদের সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এটি নির্মাণ করে। এর দৈর্ঘ্য ১৪০ ফুট, সিঁড়ির প্রশস্ততা ৬ ফুট। ওপরে রয়েছে ৮ ফুট প্রশস্ত হাঁটার পথ। দুই পাশে লাগানো হয়েছে এস্কলেটর (চলন্ত সিঁড়ি)। এস্কেলেটর দিয়ে যাত্রীরা ওপরে উঠতে পারলেও নামতে হয় হেঁটে। আর ফুটওভারব্রিজ জুড়ে ফাইবার প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সাদা রঙের ছাউনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটওভারব্রিজে উঠার সিঁড়ির সামনে লোহার গেট দিয়ে তালা মেরে রাখা হয়েছে। তালা দেখে বাধ্য হয়ে বিপরীত পাশে গিয়ে হেঁটে সিঁড়ি দিয়েই উঠতে হয়। সিঁড়িতে পলিথিন, বিস্কুটের খালি প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। ওপরে উঠতেই দেখা গেল, দিন-দুপুরে টোকাইরা সিঁড়িতে শুয়ে আছে। শুধু তাই নয়, ব্রিজে লাগানো সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছগুলো পরিচর্যার অভাবে মরে যাচ্ছে। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে ফুটওভারব্রিজের মাঝখানে কেটে নিচু করা হয়েছে। যার মধ্যে বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। তখন ব্রিজ দিয়ে চলাচল একেবারেই বন্ধ থাকে।

ফুটওভারব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী উত্তরার বাসিন্দা জুনায়েদ আলী সাকি বলেন, এটি যেন সাঁকোর স্বাদ! দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত ফুটওভারব্রিজ এটি। উপযুক্ত তদারকি ও দেখভাল না থাকলে কী হাল হতে পারে, তার উত্কৃষ্ট নমুনা এয়ারপোর্ট ফুটওভারব্রিজ। একটু বৃষ্টিতেই ফুটওভারব্রিজের দুটি স্থানে পানি জমে। পানি নিষ্কাশন বা পানি সরার কোনো ব্যবস্থা নেই। পানি জমে বেশ ফানি দৃশ্য তৈরি হচ্ছে এখানে। সারা পৃথিবীতে এমন দৃশ্য পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ!

হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে ঐ ফুটওভারব্রিজ থাকে মাদকসেবী, টোকাই ও ভবঘুরেদের দখলে। পথচারী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ছিনতাইকারী এই ফুটওভারব্রিজে ওপর ও নিচ থেকে মোবাইলফোন-ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে চলে যায়। এছাড়া একটা মাত্র সিঁড়ি থাকায় গাদাগাদি করে উঠার সময় প্রায় সময়ই মানুষকে পকেটমারের শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া অন্য ভোগান্তি তো আছেই।

বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিমানবন্দর ফুটওভারব্রিজটিতে উঠার সিঁড়ি মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা। বন্ধ থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হন যাত্রীরা। ট্রাফিক পুলিশের বাধাও মানছেন তারা। এ সিগন্যালে জ্যাম এখন বহুগুণে বেড়ে গেছে। চলন্ত সিঁড়ি চালু থাকলে পথচারীদের চাপ কম থাকত রাস্তায়।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এ বিষয় সম্পর্কে এখনো জানি না। তবে আমি এ বিষয়ে খোঁজ নেব। 

ইত্তেফাক/কেকে