তারুণ্যে উচ্ছ্বাস কখনো কখনো সময়ের সঙ্গে বা নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমায় বেঁধে রেখে বর্ণনা করা যায় না। অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঝুঁকি নিতে পারার বয়স তারুণ্য, হুটহাট আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠার বয়স তারুণ্য। তারুণ্যের ছাত্রজীবন মধুর জীবন। এখানে নেই কোনো সাংসারিক জটিলতা, নেই কোনো ভাবনার অবকাশ।
এমনি তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মেতেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সব সময়ই মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরাও। আনন্দ-আড্ডায় জড়িয়ে ধরে প্রিয় সহপাঠীদের কেউ যায় ক্যাফেটেরিয়ায়, কেউ গান ও আড্ডায় মাতায় বিবিএর সিঁড়ি। শিক্ষার্থীদের আমেজ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মনে জেগে ওঠে বাঁধভাঙা উল্লাস আর বর্ণিল সাজে ক্যাম্পাস। কখনো হাসি, কখনো গান আবার আনন্দ, মজা, মান-অভিমান—এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন। এই আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণদের জন্য আনন্দের। এই আনন্দ বিরাজ করুক সব সময়ের জন্য। আলোর পথে দুর্বার গতিতে ছুটে চলুক তারুণ্যের পথচলা। ক্যাম্পাস লাইফে এ রকম অনুভূতিগুলো সত্যিই ভুলে যাওয়ার নয়।
তারুণ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাটিয়ে দেখা যায় জীবনের রঙিন মুহূর্ত কাটে ক্যাম্পাসে। তরুণ বয়সের বন্ধুরা হয়ে ওঠে জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যাদের ছাড়া একমুহূর্ত চলা যায় না, চিন্তাও করা যায় না কোনো কিছু। আজ এখানে ঘোরাঘুরি, তো কাল আরেক জায়গায়। ক্যাম্পাস-জীবনের সবচেয়ে আপনজন তো এরাই; সময়-সুযোগ পেলেই যাদের সঙ্গে জমে ওঠে গল্প, আড্ডা, গান।
ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনসহ নানা ব্যস্ততার ফাঁকেও আড্ডা চলে অবিরত। নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি-অর্থনীতি, প্রেম-ভালোবাসা, ক্লাস-পরীক্ষা—সবই উঠে আসে এই আড্ডাবাজিতে। গল্পে আর আড্ডায় কাটে সময়। কখনো কখনো গানে গানে ছড়িয়ে পড়ে তারুণ্যের উদ্দামতা, কখনো ছোটখাটো খেলায় মেতে ওঠে তারুণ্যে ভরা সবুজ প্রাণ। আর ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপার তো আছেই। সময়-সুযোগ মিললেই সব পিছুটান ভুলে তরুণেরা চলে যেতে পারে কাছে কিংবা দূরে কোথাও। প্রকৃতি, সাগর, পাহাড় কিংবা ইট-পাথরের নগরে একচিলতে খোলা হাওয়ায় একদল বন্ধুবান্ধব মিলে ঘুরে আসতে পারেন।
ক্যাম্পাসে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, ছাত্ররাজনীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আরো স্মার্ট ও পরিচিত করে তোলে। সর্বক্ষেত্রে ক্যাম্পাস-জীবনে তারুণ্যের পদচারণা চোখে পড়ার মতো। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষে সবার চোখে-মুখে ভেসে ওঠে প্রিয় ক্যাম্পাসকে না ভোলার দৃঢ় প্রত্যয়।
