মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আড়াই কেজি হেরোইন মামলা: বিচার শেষ হয়নি ১৬ বছরেও

এখন নিষ্পত্তি করতে হবে চার মাসের মধ্যে

আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ১৯:৫৬

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আড়াই কেজি হেরোইন। জব্দ করা হয় দেড় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের সেই ঘটনায় মামলা হয় ২০০৭ সালে। কিন্তু গত ১৬ বছরেও মামলার বিচার শেষ হয়নি। বিষয়টি নজরে আসায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম মামলার বিচার কাজ চার মাসের মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার বিচার কাজ শেষ করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করতে ঢাকার বিশেষ দায়রা আদালত-৪ এর বিচারককে বলা হয়েছে। আদালতের এই আদেশের বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিশ্বজিত দেবনাথ।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৭ সালের ৩১ মে সিদ্ধেশ্বরীর একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানে দুই কেজি ৬০০ গ্রাম হেরোইন এবং এক হাজার ৪৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয় সাইমুন আজম জনি (২৩) ও মো. শাহরিয়ার ইমনকে (২৫)।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট  তারা সংগ্রহ করে। সংগ্রহের পর এসব মাদক ঢাকার বিভিন্ন মাদক বিক্রেতার কাছে পাইকারিভাবে সরবরাহ করে। এ ঘটনায় পরদিন রমনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ১(খ) এবং ৯(খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হাতেনাতে গ্রেফতার কৃত দু’জন ছাড়াও মো. আলমগীর হোসেন শামীমকে (৩৮) আসামি করা হয়। ইমনের বাড়ি সাতক্ষীরায়। বাকি দুজনের বাড়ি যশোরে। মামলার আসামি শাহরিয়ার ইমনকে গত ২৫ মে জামিন দেয় হাইকোর্ট। জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। 

এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য আসে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ বলেন, বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামি ইতিপূর্বে জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছিলেন। পরে আবার জামিন পেয়েছেন। ইতিমধ্যে মামলার বিচারের জন্য প্রস্তুত। এ অবস্থায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারেন। 

বাধাগ্রস্ত হতে পারে বিচার কার্যক্রম। শুনানি শেষে চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম মামলার বিচার কার্যক্রম ১৬ বছরেও শেষ না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে আসামিকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে মামলার বিচার কাজ চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে ঢাকার বিশেষ দায়রা আদালত-৪ এর বিচারককে নির্দেশ দেন।

আসামির আইনজীবী গোপাল চন্দ্র বলেন, আমার মোয়াক্কেল আগে জামিনে ছিলো। জামিনের অপব্যবহার করায় তা বাতিল করে। এরপর থেকে সে তিন বছর ধরে কারাগারে আছেন। পরে হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করেছে। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে এখন পর্যন্ত মামলা ৪/৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মোট সাক্ষী রয়েছে ২০/২৫ জনের মত।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

তাজিয়ায় বোমা: বিচারের প্রথম ধাপ পেরোতে ৭ বছর পার

কামরাঙ্গীরচরে ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫১

গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত: হাইকোর্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সামিয়া রহমানকে সুযোগ-সুবিধাসহ পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা সেলিম প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাশিয়ান স্ত্রীর

বিপুল ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

টিপু-প্রীতি হত্যা: শুটারকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক মোল্লা শামীম আটক!