মেঘের ভালোবাসা
মেঘ কেন এতো ভালোবাসে আমায়!
হাতছানি দিয়ে শুধু ডাকে ইশারায়।
টুপটাপ ঝরে পরে পাড়ায় পাড়ায়,
সোঁদা মাটি সুগন্ধী সুবাস ছড়ায়।
কদম ফুলের মঞ্জুরি হাওয়ায় ঝরে,
সারি সারি তালবন নদীর ওপারে।
কালো মেঘ, সাদা মেঘ দূর আকাশে,
পাশাপাশি ওরা যেন হাওয়ায় ভাসে।
নদী পথে দেখি তারে ছোট ডিঙ্গায়,
হাতছানি দিয়ে শুধু ডাকে ইশারায়।
কবে শেষ কথা হলো মনে নেই আর,
এই ভরা বর্ষায় দেখা আবার।
চারিপাশে ধান ক্ষেত সবুজে সবুজ,
মেঘের ডাকে ছুটে যায় মন যে অবুঝ!
নদী পাড়ে বাঁশ বনে বাঁধা ছোট নাঁও,
পানকৌড়ি, ডাহুক-ডাহুকীর দেখা পাবে যদি তুমি যাও।
এই দেহ কতবার দিয়েছে ধুয়ে, ঐ রুপোলি বৃষ্টি এসে;
ঠোঁটে চুমু দিয়ে গেছে নারীর বেশে, ভালোবেসে।
দূর্বার গতিতে বুকের পরে কতবার পড়েছে ঝরে,
কালিমাখা রং দেখে গাঙচিল, বলাকা আকাশে ওড়ে।
চুলের জল যেন ঝরে পরে চোখের পাতায়,
সবুজে সবুজ হয়ে ওঠে চারিদিক লতা পাতায়।
মেঘ তোমায় ভালোলাগে, উড়ে যাব তোমার দেশে;
একদিন, বলাকার বেশে শুধু তোমায় ভালবেসে!
সে তুমি
অনেক অনেক দিন আগে
আমি কারো অপেক্ষায় ছিলাম,
যে হৃদয়ের সবগুলো দরজায়
কড়া নাড়বে;
আমার সব অবরুদ্ধতা
ভেঙে দিয়ে,
আমায় উজাড় করে
ভালোবাসবে,
কোন কিন্তু থাকবেনা;
কোন দ্বিধা থাকবে না;
কোন অপূর্ণতায় কিছু যায়
আসবে না।
কোন বৈষয়িক হিসাব নিকাশ
সেখানে থাকবে না,
যেখানে মন ছুটে যাবে
সাইক্লোনের মতো,
সুনামির মতো,
ভাসিয়ে নিয়ে যাবে আমায়
নিশ্চিন্তে, সীমাহীন আত্মবিশ্বাসে,
সাড়ম্বরে, ঠিক যেমন
অভ্যুত্থান রুখে দেয় বিপর্জয়;
যুগ যুগ ধরে সেই
অবধারিত আগমন, অনুরণন,
সমর্পন, স্পন্দন
সে তুমি।
বিরহ রোদন
কবিতা লেখার অপরাধে
নাম হয়েছিল নষ্টা,
চরম শাস্তি হলো
হয়ে গেলাম একা ।
বিনিদ্র রজনী কাটে
একাকী প্রতিটা প্রহর,
প্রকৃতি সেদিন ছিল পাশে
হয়ে বিরহ কাতর।
সেদিন আকাশ ছিল মেঘলা গোমট
পাখিরা ওড়েনি ওর বুকে,
ভালোবাসার কথা বলে নি
মেঘেদের সাথে।
ঘনকালো মেঘগুলো বিরহ কাতর
চেয়ে দ্যাখো ওদের বুকে বিরহের জল।
দুটি হৃদয়ের ব্যাকুলতায় অভ্যস্থ বাতাস সেদিন থেমে গিয়েছিল,
হৃদয়ের ব্যাকুলতা হয়েছিল প্রশ্নবিদ্ধ
বাতাস হয়েছিল তাই রুষ্ট।
বিরহ বারতা তরঙ্গায়িত করবে না সে
সেদিন দখিনা বাতাস থেমে গিয়েছিল নির্বাক হয়ে।
সেদিন অলির কথায় হাসেনি বকুল
শিমুল, পলাশ সবাই ছিল নিশ্চুপ
বিরহ কাতর হৃদয়ে,
বুকে বসে মধু নিয়ে
যাবে অলি প্রয়োজন শেষে
ফিরবে না সে ভালোবেসে।
অন্য ফুলে বসবে সে
আরেক ফাগুনে,
বকুল পুড়ে মরে
ভালোবাসার আগুনে।
আহারে বকুল
হারিয়ে সব কূল
চলে যায় যদি অন্তিম শয্যায়
তাতে অলির কিবা আসে যায় ?
সেদিন আকাশে চাঁদ ওঠে নি
পূর্ণ যৌবনা চাঁদ
অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে
বিরহ কাতর হৃদয়ে
প্রচন্ড অভিমানে
জ্যোস্না হারিয়ে
রূপ নিয়েছিল অমাবশ্যায়।
সেদিন তারাগুলো ও হেসে ওঠে নি
মিটমিট করে জ্বলেনি আকাশে,
বিরহ বেদনায় নীল হয়ে
নক্ষত্ররা ও খসে গেছে।
কবিতা আমার স্বপ্ন
কবিতা আমার ভালোবাসা,
কবিতার জন্য নিত্যদিন
কতো অপবাদ সহ্য করা ।
চাই না বিরহ , চাই না বেদন
কবিতায় হোক মহা মিলন,
আকাশে বাতাসে প্রকৃতিতে
মানুষে মানুষে।
হেসে যেতে চাই ,ভেসে যেতে চাই
কবিতা লেখার মহা উল্লাসে।
প্রিয় মোবাইল
মোবাইল তুমি নিয়েছ কেড়ে
মধুর ঘুমের স্বাদ,,
মোবাইল তুমি বসেছ পেতে,
টাকা লুটবার ফাঁদ।
মোবাইল তুমি মায়ের বকুনী ,
বাবার তিরস্কার।।
মোবাইল তুমি পকেট খালির
অবাক আবিস্কার।
মোবাইল তুমি ছেলে মেয়ের
নষ্ট প্রেমের গ্লু,
মোবাইল তুমি গভীর
সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্লু।
মোবাইল তুমি যুবক ছেলের
শক্ত হাড়ের ক্ষয়,
মোবাইল তুমি আনছো ডেকে
চরিত্র তে লয়।
মোবাইল তুমি নারীর ভূষন
লজ্জা নিয়েছ কেড়ে,
মোবাইল তোমার জন্যেই আজ
ধর্ষণ গেছে বেড়ে।
মোবাইল তুমি নিভৃতে কেড়ে
নিচ্ছ চোখের জ্যোতি,
মোবাইল তুমি উপকার নয়
বেশিটাই করো ক্ষতি।
মোবাইল তুমি স্বামী স্ত্রীর
ঝগড়া সকাল বেলা,
মোবাইল তুমি পরকিয়া
প্রিয় পরিবার অবহেলা।
মোবাইল তুমি সব ভেজালের
আসল রহস্য
তবু তোমায় ছাড়া চলেনা
আজ গোটা বিশ্ব..
মোবাইল তুমি মিথ্যে বলার
সেরা কলকাঠি
তোমার আড়ালে যায়না চেনা
কে ভুয়া কে খাঁটি..!!!!!
তোমাকে খুঁজছি
তোমাকে খুঁজেছি মনের অলি-গলিতে
তোমাকে খুঁজেছি ফেলা আসা স্মৃতিতে
তোমাকে খুঁজেছি ধুলামাখা পথে,
তোমাকে খুঁজেছি লবণাক্ত ঠোঁটে;
কিন্তু পাইনি কোথাও।
অবশেষে পেয়েছি অভিমানের দেয়ালের ঠিক ওপারে!
তোমাকে খুঁজেছি শার্টের বুক পকেটের নিচে হৃদয়ে
তোমাকে খুঁজেছি হাতের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে
তোমাকে খুঁজেছি চেনা ঘামের গন্ধে;
কিন্তু পাইনি কোথাও।
অবশেষে পেয়েছি মিথ্যে অভিযোগের সমুদ্রে!
তোমাকে খুঁজেছি ভালোবাসার ট্রেনের সকল বগিতে,
তোমাকে খুঁজেছি কালি জমা চোখের পাতায় পাতায়,
তোমাকে খুঁজেছি স্পর্শের অনুভূতিতে;
কিন্তু পাইনি কোথাও।
অবশেষে পেয়েছি দূরত্ব মাপার ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায়!
তোমাকে খুঁজে-খুঁজে ক্লান্ত আমি,
চারপাশে শুধুই অদ্ভুতময় তুমির শূন্যতা,
অদ্ভুতময় তুমির অপরিপূর্ণতা!
