খাদ্য অনিরাপত্তায় পাকিস্তান

আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ২২:০৭

পাকিস্তানে খাদ্য নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা এবং কৃষি সম্পদের অব্যবস্থাপনার কারণে, পাকিস্তান খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেই ফেলেছেন, আগামী দিনে খাদ্য নিরাপত্তাই পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি এবং পাকিস্তানকে এখন থেকেই এই সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

পাকিস্তানি কৃষকরা ন্যূনতম সহায়তা মূল্য (এমএসপি) প্রতি মণ গম দুই হাজার পাকিস্তানি রুপি ও প্রতি মণ আখ তিনশ’ রুপিতে নির্ধারণ এবং কৃষি নলকূপের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পাঁচ রুপি করাসহ বেশ কিছু দাবিতে মিছিল করেছিল গত বছর।

গত এক বছর কঠিন সময় পার করেছেন পাকিস্তানি কৃষকরা। গম এবং আখের নজিরবিহীন সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকের দুর্দশার দিকে নজর না দেওয়ার অভিযোগে ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরীক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার বিরোধী দলীয় জোট পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম)-এর সমালোচনার শিকার হয়েছিল। 

ফেডারেল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের এক রিপোর্ট মতে, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ভারতীয় মুদ্রায় ৪ টাকা ৬ পয়সা থেকে বেড়ে অন্তত ৬ টাকা ৩৮ পয়সায় এসে দাঁড়ায়। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম ত্রৈমাসিকে, এলপিজির ১১.৬৭ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫১ শতাংশ বেড়েছে। আগে যেখানে দাম ছিল ১ হাজার ৫৩৬ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩২২ টাকা। একইভাবে, তিন বছরে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। 

এদিকে এহেন পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মাহমুদ খানকে গমের আটার দাম নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। দ্রুত ১০ কেজি আটার বস্তার দাম সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় নিজের জামা বিক্রি করে সস্তায় মানুষের কাছে আটা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শাহবাজ। বর্তমানে পাকিস্তানে ১০ কেজি আটার দাম প্রায় এগারোশো টাকা।

রবিবার লাহোরের থাকারা স্টেডিয়ামে এক জনসভায় পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আবার বলছি, গায়ের জামা বিক্রি করে হলেও মানুষের কাছে সস্তায় আটা পৌঁছে দেব। দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে ফেরাতে প্রয়োজনে আমি নিজের প্রাণও দিয়ে দেব।” এদিন দেশের আর্থিক দুর্দশার জন্য ইমরান খানকে দায়ী করে শাহবাজ বলেন, “দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের জন্য দায়ী ইমরান খান। যখন গোটা বিশ্বে জ্বালানির মূল্য বাড়ছিল তখন আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ে দেশে পেট্রোপণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছিলেন ইমরান।”

ইত্তেফাক/এএইচপি