খুলনায় সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ

‘পিবিআই পরিদর্শক মাসুদ ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি দিয়েছিল’

আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ১৮:৩৩

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনার পরিদর্শক মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ধর্ষণের শিকার সেই কলেজ ছাত্রী নারী। 

মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পিবিআই পরিদর্শক মাসুদ তাকে সমস্যার সমাধানের কথা বলে একটি অফিসে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। এছাড়া মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য এএসআই মিরানসহ তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করছে পরিদর্শক মাসুদ।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ঐ ছাত্রী বলেন, গত ১০ মে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ফোনে সমস্যার কথা বললে মাসুদ তাকে পিবিআই অফিসে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে মাসুদ তার ফোনের সবকিছু দেখে ব্যস্ত আছে বলে তাকে পরে দেখা করতে বলেন।
মাসুদ তাকে ফোন করে একটি ইমো একাউন্ট খোলার কথা বলেন। পরে ইমোতে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় নিয়মিত। প্রতিদিন তার সঙ্গে পাঁচবার কথা বলতো মাসুদ। ১৩ মে ফোন দিয়ে তাকে জানানো হয় ঢাকা যাচ্ছেন তিনি। ১৪ মে ফোন দিয়ে মাসুদ তাকে পরেরদিন দেখা করার কথা বলেন। তখন ওপাশ থেকে জানানো হয় পিবিআই অফিসে, মাসুদ প্রতি উত্তরে বলেন না।

আরও জানানো হয়, ১৫ মে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ইমোতে ফোন দিয়ে মাসুদ তাকে ধর্মসভা মন্দিরের সামনে আসতে বলেন। তখন তিনি বলেন (ভুক্তভোগী ছাত্রী) ধর্মসভা মন্দির কোথায় তা তিনি জানেন না। উত্তরে মাসুদ রিকশায় তাকে সেখানে আসতে বলেন। সেখানে আসলে তাকে বলা হয়, সাইবার ক্রাইম অফিসে যেতে হবে। এরপর ধর্মসভা মন্দির থেকে মোটরসাইকেলে তাকে ছোট মির্জাপুর এলাকার এক‌টি অফিসে নিয়ে যায়। রুমের ভেতর যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিচিত এক ব্যাক্তি অফিসের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর মাসুদ আমাকে ধর্ষণ করে। নিজেকে রক্ষার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে কিছু জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেন মাসুদ। এর আগে তাকে মারধর করাও হয়। ওই অফিস থেকে বের হওয়র পর তিনি রিকশায় উঠে সরাসরি থানায় চলে আসেন। মাসুদও মোটরসাইকেল নিয়ে তার রিকশার পিছু নিয়ে থানার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। ওখানে মাসুদের অবস্থান দেখে ভয় পান ওই তিনি। এরপর খুলনা থানার একজন পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান আল মামুনের নাম্বর সংগ্রহ করে বিষয়টি তাকে জানান।

খুলনা থানার পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। সেখানে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, খুলনা থানার এএসআই মো. মিরান শেখ ও আমাকে নিয়ে মাসুদ বিভ্রান্তিমূলক কথা ছাড়াচ্ছে। যা বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন তিনি। তিনি মিরান শেখ নামে কাউকে চেনেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জোর দাবি করেছেন। এমনকি গত সোমবার মামলাটি আপস করার জন্য পিবিআই পরিদর্শক মাসুদ সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে তার বাড়ি পাঠিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তি‌নি আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু তার নামে এরকম অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারি রয়েছে, যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

উল্লেখ্য, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনার ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ গত সোমবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ঐ কলেজছাত্রীকে তিনি ধর্ষণ করেননি। খুলনা সদর থানার এএসআই মো. মিরান শেখ ঐ ছাত্রীকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। মিরানের কাছে তিনি ১৬ লাখ টাকা পাবেন, সেই টাকা না দিতেই মিরান এ ষড়যন্ত্র করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৬ মে উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন নিয়েছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

ইত্তেফাক/এমএএম