বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্বের কল্যাণে এক বছরে বাংলাদেশ বিস্ময়করভাবে ১১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে পুরোপুরি দুই ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬৯ শতাংশ।
এমন তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ। বাংলাদেশে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোভিড-১৯ টিকাদান শুরু হয়।
গতকাল এক লিখিত বিবৃতিতে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোভ্যাক্সের আওতায় এক বছরে ইউনিসেফ বাংলাদেশে ১৯ কোটিরও বেশি কোভিড-১৯ টিকা সরবরাহ করেছে। এখন পর্যন্ত কোভ্যাক্সের আওতায় সবচেয়ে বেশি টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ইউনিসেফ বাংলাদেশে প্রথম কোভ্যাক্সের টিকা সরবরাহ করে ২০২১ সালের ১ জুন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সংকল্প এবং অবিচল নেতৃত্বে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আশ্চর্যজনক সক্ষমতা দেখিয়েছে। টিকার অবিচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিশ্রমের কারণে আমরা টিকা নষ্ট না করেই সারা দেশের মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।’
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং টিকার ন্যায়ভিত্তিক সরবরাহ বজায় থাকলে কী অর্জন করা যেতে পারে, বাংলাদেশের কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ এবং টিকাদান অব্যাহত রাখার সক্ষমতাই তা প্রমাণ করে। দ্রুততার সঙ্গে এবং নিরাপদে দেশের প্রতিটি কোনায় কোনায় লাখ লাখ মানুষের হাতে টিকা প্রয়োগ অসম্ভবের চেয়ে কম কিছু নয়। চলতি জুনে কোভিড-১৯ টিকার বুস্টার ডোজ প্রদানের একটি ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. বারদান জং রানা বলেন, জনগোষ্ঠীর ৬৯ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা প্রদান টিকাদান সম্পন্ন করার ফলে বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের যে বৈশ্বিক টার্গেট করেছিল, তা অর্জনের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বুস্টার ডোজ সপ্তাহ শুরু ৪ জুন